ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ হলো দ্বিতীয় স্তম্ভ, যা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান নারী-পুরুষের উপর ফরজ। দিনে পাঁচ ওয়াক্ত এই ফরজ নামাজ শরিয়তসম্মত কোনো ওজর ছাড়া কখনোই ত্যাগ করার সুযোগ নেই। এর মধ্যে ফজরের নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। কারণ, এ নামাজ আদায় করতে হয় প্রশান্তির ঘুম ও আরামদায়ক বিছানা ত্যাগ করে। শুধু ফরজই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত দুই রাকাত সুন্নত নামাজের মর্যাদাও হাদিসে এসেছে অতুলনীয় শব্দে।
রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, ‘ফজরের দুই রাকাত সুন্নত দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।’ (মুসলিম: ৭২৫)
বিজ্ঞাপন
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা এই দুই রাকাত নামাজ কখনো ত্যাগ কোরো না, এমনকি শত্রুবাহিনী তোমাদের তাড়া করলেও।’ (আবু দাউদ: ১২৫৮)
আরও পড়ুন: জোহরের সুন্নত নামাজের বিস্ময়কর ফজিলত
এসব বাণী দ্বারা ফজরের সুন্নত নামাজের প্রতি কতটা অটল থাকতে হবে, তারই নির্দেশনা মেলে। কোনো পার্থিব ক্ষতি বা অসুবিধাই যেন এই ফজিলতপূর্ণ আমল থেকে বিরত রাখতে না পারে। হাদিসে এই দুই রাকাত নামাজের আধ্যাত্মিক ও পরকালীন মূল্যকে পৃথিবীর সমস্ত ধন-দৌলত, সম্পদ ও বৈভবের চেয়েও ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে।
এ নামাজের গুরুত্ব এতটাই যে, কোনো কারণে ফজরের ফরজের আগে পড়া সম্ভব না হলে, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রেখেছেন রাসুল (স.)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) পড়তে পারে না, সে যেন তা সূর্যোদয়ের পর পড়ে নেয়।’ (সুনানে তিরমিজি: ৪২৩)। এ থেকে শিক্ষা মেলে যে, এই সুন্নত নামাজ একেবারে ছেড়ে না দিয়ে যেকোনোভাবে আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ফজরের জামাত চলাকালীন সুন্নত পড়ার বিধান
আমাদের উচিত, আলস্য ও অবহেলা ত্যাগ করে নিয়মিতভাবে এই নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য ও অফুরন্ত সওয়াব অর্জনের চেষ্টা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ফজরের সুন্নত নামাজের এই অনন্য মর্যাদা ও কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।




