শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

দোয়ার আগে যেভাবে আল্লাহর প্রশংসা করবেন

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

দোয়ার আগে যেভাবে আল্লাহর প্রশংসা করবেন

আল্লাহ তাআলার অপার করুণা ও সাহায্য ছাড়া মানুষের জীবনে কোনো কাজেই সত্যিকার সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত সব পরিস্থিতিতে একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো।’ (সুরা গাফির: ৬০)। আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যখন কোনো আহ্বানকারী আমাকে ডাকে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়ে থাকি।’ (সুরা বাকারা: ১৮৬)

দোয়া কবুলের কিছু আদব ও শিষ্টাচার রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- দোয়ার শুরুতে মহান আল্লাহর প্রশংসা করা এবং প্রিয়নবী (স.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা। এতে দোয়া অধিক গ্রহণযোগ্য হয়। কোরআন ও হাদিসে দোয়ার শুরুতে পাঠযোগ্য কিছু প্রশংসামূলক বাক্য বর্ণিত হয়েছে, নিচে তারই কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো।


বিজ্ঞাপন


কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত আল্লাহর প্রশংসামূলক বাক্য

১.  اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ  الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ مٰلِكِ یَوۡمِ الدِّیۡنِ 
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। যিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু। যিনি বিচার দিনের মালিক।  (সুরা ফাতিহা: ১-৩)

২. اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ وَ جَعَلَ الظُّلُمٰتِ وَ النُّوۡرَ ۬ؕ ثُمَّ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا بِرَبِّهِمۡ یَعۡدِلُوۡنَ 
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান ও জমিন এবং সৃষ্টি করেছেন অন্ধকার ও আলো। তারপর কাফিররা তাদের রবের সমতুল্য স্থির করে। (সুরা আনআম: ১)

আরও পড়ুন: ইচ্ছাপূরণের জন্য ইসমে আজমসহ যে দোয়া পড়বেন


বিজ্ঞাপন


৩. وَ قُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِیۡ لَمۡ یَتَّخِذۡ وَلَدًا وَّ لَمۡ یَكُنۡ لَّهٗ شَرِیۡكٌ فِی الۡمُلۡكِ وَ لَمۡ یَكُنۡ لَّهٗ وَلِیٌّ مِّنَ الذُّلِّ وَ كَبِّرۡهُ تَكۡبِیۡرًا  
বলুন, প্রশংসা আল্লাহরই যিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর সার্বভৌমত্ত্বে কোনো অংশীদার নেইএবং দুর্দশাগ্ৰস্ততা থেকে বাঁচতে তাঁর অভিভাবকের প্রয়োজন নেই। সুতরাং আপনি পূর্ণরূপে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করুন। (সুরা বনি ইসরাইল: ১১১)

৪. اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ عَلٰی عَبۡدِهِ الۡكِتٰبَ وَ لَمۡ یَجۡعَلۡ لَّهٗ عِوَجًا  
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি কিতাব নাজিল করেছেন, আর তাতে কোনো বক্রতার অবকাশ রাখেননি। (সুরা কাহাফ: ১)

৫.  وَ هُوَ اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ لَهُ الۡحَمۡدُ فِی الۡاُوۡلٰی وَ الۡاٰخِرَۃِ ۫ وَ لَهُ الۡحُكۡمُ وَ اِلَیۡهِ تُرۡجَعُوۡنَ  
আর তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। দুনিয়া ও আখেরাতে সমস্ত প্রশংসা তাঁরই; বিধান তাঁরই। আর তাঁর কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (সুরা কাসাস: ৭০)

৬.  اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِیۡ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ وَ لَهُ الۡحَمۡدُ فِی الۡاٰخِرَۃِ ؕ وَ هُوَ الۡحَكِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ 
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর যিনি আকাশ ও পৃথিবীতে যা আছে সবকিছুর মালিক। আখেরাতেও প্রশংসা তাঁরই; তিনি মহা প্রজ্ঞাশীল, সকল বিষয়ে অবহিত। (সুরা সাবা: ১)

আরও পড়ুন: প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ৪০ দোয়া

৭.  اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ جَاعِلِ الۡمَلٰٓئِكَۃِ رُسُلًا اُولِیۡۤ اَجۡنِحَۃٍ مَّثۡنٰی وَ ثُلٰثَ وَ رُبٰعَ ؕ یَزِیۡدُ فِی الۡخَلۡقِ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ 
যাবতীয় প্রশংসা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর জন্য। তিনি দূত মনোনীত করেন ফেরেশতামন্ডলীকে, যারা দুই দুই বা তিন তিন বা চার চার ডানাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছে বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ সকল বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান। (সুরা ফাতির: ১)

৮, اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيكَ لك الْمَنَّانُ بَدِيعَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، يَا ذَا الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ 
সকল প্রশংসা আল্লাহর, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি ব্যতীত প্রকৃত কোনো উপাস্য নেই, আপনি এক, আপনার কোনো শরিক নেই, অনুগ্রহ প্রদর্শনকারী হে আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা, হে মর্যাদা ও সম্মান দানের অধিকারী। হে চিরঞ্জীব ও সর্বনিয়ন্তা। (সুনানে তিরমিজি: ৩৫৪৪; আবু দাউদ: ১৪৯৫; নাসয়ি: ১৩০)

৯. أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ 
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি একক, অদ্বিতীয়, সকলের মুখাপেক্ষীর একমাত্র অবলম্বন। যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি আর তাঁর সমান বা সমকক্ষ কেউ নেই ( আবু দাউদ: ১৪৯৩)

আরও পড়ুন: দোয়া কবুল না হলে এই আমলটি করুন 

দোয়া হলো বান্দা ও প্রভুর মাঝে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সেতুবন্ধন। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার দোয়া শুনতে ভালোবাসেন এবং বান্দার প্রতি করুণার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত রাখেন। তাই আমাদের উচিত দোয়া করার শুরুতেই মহান আল্লাহর প্রশংসা করা এবং প্রিয়নবী (স.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা। এতে দোয়া অধিক গ্রহণযোগ্য হয়, আল্লাহর রহমত নেমে আসে এবং বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সৌভাগ্য লাভ করে।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর