সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

মিথ্যার অভ্যাস থেকে চিরমুক্তি চান? জানুন নবীজির শেখানো পদ্ধতি

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

মিথ্যার অভ্যাস থেকে চিরমুক্তি চান? জানুন নবীজির শেখানো পদ্ধতি

ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এতে সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মিথ্যাকে চিহ্নিত করা হয়েছে ভয়ঙ্কর পাপ ও জঘন্য অভ্যাস হিসেবে, যা ব্যক্তির ঈমান কলুষিত করে এবং সমাজে অশান্তির বীজ বপন করে।

মুনাফিকির প্রধান নিদর্শন মিথ্যা

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুনাফিকের তিনটি লক্ষণ: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে।’ (বুখারি: ৩৩) এ থেকে স্পষ্ট, মিথ্যা বলা মুনাফিকির সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য। নিয়মিত মিথ্যাবাদী ব্যক্তি ধীরে ধীরে ঈমানি শক্তি হারিয়ে ফেলে।

জাহান্নামের পথ

নবীজি (স.) ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই সত্যবাদিতা পুণ্যের দিকে নিয়ে যায়, আর পুণ্য জান্নাতে পৌঁছে দেয়। মানুষ যতক্ষণ সত্য বলার চেষ্টা করে, আল্লাহর কাছে সে সত্যবাদী হিসেবে লিখিত হয়। আর মিথ্যাচার নিঃসন্দেহে পাপাচারের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপাচার জাহান্নামে নিয়ে চলে। মানুষ মিথ্যা বলতে থাকলে এক সময় সে আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী হিসেবে লিখিত হয়।’ (মুসলিম: ২৬০৭)। মিথ্যা হলো সকল গুনাহের দ্বার। এটি মানুষকে একের পর এক পাপের দিকে ঠেলে দিয়ে জাহান্নামের পথ প্রশস্ত করে।

আরও পড়ুন: গিবতের গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে এই ৫টি কাজ করুন


বিজ্ঞাপন


মিথ্যার প্রতি রাসুল (স.)-এর তীব্র ঘৃণা

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নিকট মিথ্যার চেয়ে অধিক ঘৃণিত আর কোনো চরিত্র ছিল না। তাঁর সামনে কেউ মিথ্যা বললে, তিনি চিন্তিত হয়ে পড়তেন, যতক্ষণ না জানতে পারতেন যে ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য তওবা করেছে।’ (তিরমিজি: ১৯৭৩)

কোরআনে মিথ্যার ভয়াবহ পরিণতি

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সীমালঙ্ঘনকারী, মিথ্যাবাদীকে হেদায়াত দেন না।’ (সুরা গাফির: ২৮)। অন্য আয়াতে এসেছে, ‘মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক।’ (সুরা আলে ইমরান: ৬১)

রসিকতা বা অনুমানভিত্তিক মিথ্যাও অপরাধ

অনেকে হাসি-তামাশা বা আন্দাজে মিথ্যা কথা বলেন। এ বিষয়েও ইসলামের স্পষ্ট বাণী রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ধ্বংস সেই সকল অনুমানভিত্তিক মিথ্যাচারীর জন্য!’ (সুরা জারিয়াত: ১০)। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো কথা শুনে (যাচাই ছাড়াই) তা প্রচার করে, সে মিথ্যাবাদী হিসেবে গণ্য।’ (মুসলিম: ৫)

আরও পড়ুন: যেসব মিথ্যা নিয়ে মানুষ অসতর্ক

মিথ্যা থেকে মুক্তির কার্যকরী উপায়

মিথ্যা পরিহার করা ঈমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এ অভ্যাস থেকে মুক্তির জন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:

  • দৃঢ় সংকল্প: মনে প্রাণে প্রতিজ্ঞা করুন, ‘আমি আর কখনো মিথ্যা বলব না’।
  • নিয়মিত তওবা ও ইস্তেগফার: অতীতের মিথ্যার জন্য খাঁটি মনে তওবা করুন এবং ভবিষ্যতে না বলার জন্য আল্লাহর কাছে শক্তি প্রার্থনা করুন।
  • প্রয়োজন ছাড়া কথা না বলা: অল্প কথায় কাজ সারার চেষ্টা করুন। অহেতুক কথোপকথন মিথ্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
  • সত্যবাদীদের সঙ্গ: যারা সত্য কথা বলে তাদের সঙ্গে চলাফেরা ও উঠাবসা করুন।
  • পরকালীন শাস্তির কথা স্মরণ: মিথ্যার কারণে কেয়ামতের দিন যে ভয়াবহ শাস্তির কথা রয়েছে, তা স্মরণ করুন।
  • অন্যের প্রতি সন্দেহ পরিহার: অহেতুক সন্দেহ ও কুধারণা থেকে দূরে থাকুন।
  • অতিরিক্ত ঠাট্টা-তামাশা বর্জন: হাসির জন্য মিথ্যা বলার প্রবণতা পরিত্যাগ করুন।
  • পরনিন্দা ও গিবত থেকে দূরে থাকা: এগুলোও একপ্রকার মিথ্যা ও খেয়ানতের শামিল।

মিথ্যা একটি ধ্বংসাত্মক অভ্যাস, যা মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং দুনিয়া ও আখেরাতে অপমানিত করে। একজন সত্যিকারের মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো- সে তার কথায়, কাজে ও আচরণে সর্বদা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে এবং যেকোনো ধরনের মিথ্যা থেকে শতহস্ত দূরে থাকে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সত্য কথা বলার ও সত্যের পথে অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। সকল প্রকার মিথ্যা থেকে আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর