ইসলামের পূর্ণতা সম্পন্ন হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কথা ও কাজে এমন কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে, যা তাঁর পার্থিব জীবনের সমাপ্তি ঘনিয়ে আসার ইঙ্গিত দেয়। এই লক্ষণগুলোকে ‘তালাইউত তাওদি’ বা বিদায়ের লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। নিচে এ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তুলে ধরা হলো।
নবীজির বিদায়ের ইঙ্গিত
১. বিশ দিন ইতেকাফ: দশম হিজরিতে রাসুল (স.) রমজান মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, অর্থাৎ ২০ দিন ইতেকাফ করেন।
২. শেষ রমজানে দুই বার কোরআন তেলাওয়াত: প্রতি রমজানে রাসুল (স.) জিবরাইল (আ.)-কে একবার কোরআন তেলাওয়াত করে শোনাতেন। কিন্তু মৃত্যুর বছর তিনি তাকে দু’বার কোরআন শোনান।
৩. বিদায় হজের ভাষণে বিদায়ের বার্তা: বিদায় হজের ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, এই বছরের পর এই ময়দানে আমি আর কখনো তোমাদের সাথে মিলিত হতে পারব কি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজের রীতিগুলো শিখে নাও, কেননা আমি এই বছরের পর সম্ভবত হজ করতে পারব না।’
বিজ্ঞাপন
৪. সুরা নাসর-এ বিদায়ের ইশারা: আইয়ামে তাশরিকের মাঝামাঝি সময়ে সুরা নাসর অবতীর্ণ হয়, যা তাঁকে ওহির মাধ্যমে তাঁর জীবনের শেষ পর্যায় সম্পর্কে অবহিত করে।
৫. উহুদ ও জান্নাতুল বাকিতে বিশেষ দোয়া: একাদশ হিজরির সফর মাসের শুরুতে তিনি উহুদে গিয়ে শহীদদের জন্য দোয়া করেন, যেন তিনি জীবিত ও মৃত সবার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছেন। এক রাতে তিনি জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া করেন এবং বলেন- ‘হে কবরবাসীগণ! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক... আমরা অচিরেই তোমাদের সাথে মিলিত হব।’
৬. মসজিদে নববীতে শেষ ভাষণ: মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন- ‘আমি তোমাদের জন্য অগ্রগামী (ফুরুত) এবং তোমাদের উপর সাক্ষী। আল্লাহর কসম! আমি এখনই আমার হাউজে কাউসার দেখতে পাচ্ছি... আমাকে পৃথিবীর ভাণ্ডারের চাবিসমূহ দেয়া হয়েছে... আমি আশঙ্কা করি যে তোমরা দুনিয়ার প্রতি লোভে পড়ে পরস্পর প্রতিযোগিতা করবে।’
এসব কথা ও কাজের মাধ্যমে রাসুল (স.) তাঁর উম্মাহকে তাঁর আসন্ন বিদায়ের জন্য পরোক্ষভাবে প্রস্তুত করতে থাকেন।
(সহিহ বুখারি, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৮৫; আর রাহিকুল মাখতুম)

