অন্যায়ভাবে মানুষের হক খাওয়ার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। অনেকে নামাজ-রোজা আদায় করলেও অন্যের হক নষ্ট করছে—যা পরকালে চরম শাস্তির কারণ হবে। কোরআন-হাদিসের আলোকে মানুষের হক খাওয়ার পাঁচটি কঠিন শাস্তি নিচে তুলে ধরা হলো।
১. দুনিয়াবি জীবনে শাস্তি
অন্যায়ভাবে মানুষের হক ভক্ষণকারীর জন্য দুনিয়াবি জীবনে অপমান ও শাস্তি অপেক্ষা করছে। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘জালেমরা যা করছে, সে সম্পর্কে তোমরা আল্লাহকে উদাসীন ভেবো না।’(সুরা ইবরাহিম: ৪৩) অন্য আয়াতে তিনি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, ‘এমনই ছিল তোমার রবের ধরপাকড়, যখন তিনি ধরেছিলেন ওই জালেম বসতিগুলোকে, নিশ্চয়ই তার ধরা অনেক কঠিন যন্ত্রণাময়।’ (সুরা হুদ: ১০২) আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘‘অতঃপর তাদের সবাইকেই আমি (তাদের) নিজ নিজ পাপের কারণে পাকড়াও করেছি, তাদের কারো ওপর প্রচণ্ড ঝড় পাঠিয়েছি, কাউকে মহাগর্জন এসে আঘাত হেনেছে, কাউকে আমি জমিনের নিচে গেড়ে দিয়েছি, আবার কাউকে আমি (পানিতে) ডুবিয়ে দিয়েছি’। (সুরা আনকাবুত :৪০)
২. আমল কবুল না হওয়ার অভিশাপ
অন্যায়ভাবে মানুষের হক খাওয়া ইসলামে হারাম। আর হারাম খেলে নেক আমল বরবাদ হয়ে যায়। (মুসলিম, হাদিস : ১০১৫) অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘বান্দার পেটে যদি হারাম এক লোকমা খাবারও প্রবেশ করে, তাহলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার আমল কবুল হয় না (আমলটি সওয়াব লাভের অধিকারী হয় না)। আর ব্যক্তির যে গোশতপিণ্ড হারাম সম্পদ বা সুদের টাকায় বৃদ্ধি হয়েছে, তার জন্য জাহান্নামই উত্তম।’ (আল মুজামুল আওসাত: ৬৪৯৫, আততারগিব ওয়াত তারহিব: ২৬৬০)
বিজ্ঞাপন
৩. কেয়ামতের দিন টানা শাস্তি
কেয়ামতের দিন হক নষ্টকারীকে চরম অপমানজনক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। শাস্তির ওপরই রাখা হবে তাদেরকে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- অবশেষে জালিমদের বলা হবে- ‘স্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর, তোমরা যা কিছু উপার্জন করেছিলে তার প্রতিফল ছাড়া তোমাদের আর কী দেয়া যেতে পারে! (সুরা ইউনুস: ৫২) আরও ইরশাদ হয়েছে, তাদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে, যখন দুঃখ কষ্টে তাদের প্রাণ কন্ঠাগত হবে। জালিমদের কোন বন্ধু নেই, সুপারিশ গ্রাহ্য হবে এমন কোন সুপারিশকারীও নেই। (সুরা গাফির: ১৮)
৪. জাহান্নামের বিশেষ শাস্তি
যে ব্যক্তি কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করেছে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের বিশেষ একটি গর্তে নিক্ষেপ করবেন। তাকে পরানো হবে লোহার বেড়ি। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি অন্যায্যভাবে এক বিঘত জমিও আত্মসাৎ করবে, কেয়ামতের দিন সেই জমিসহ সপ্ত জমিনের নিচে তাকে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে।’ (বুখারি: ২৪৫৪) অন্য বর্ণনামতে, তাকে সাত স্তর পর্যন্ত বেড়ি পরিয়ে দেওয়া হবে। (বুখারি: ৩১৯৮)
আরও পড়ুন: জুলুমের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহর শপথ
৫. ঈমানের জন্য মারাত্মক হুমকি
হক নষ্ট করা ঈমানের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কসমের মাধ্যমে মুসলিমের প্রাপ্য অধিকার আত্মসাৎ করবে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করে দেবেন। আর তার জন্য জান্নাত নিষিদ্ধ করে দেবেন। কোন এক ব্যক্তি তাঁকে বললো, হে আল্লাহএ রাসুল! যদি (জুলুম করে আত্মসাৎ করার) বস্তুটি তুচ্ছ হয়? উত্তরে তিনি বলেন, যদিও তা বাবলা গাছের একটা শাখা হয়। (মুসলিম, বুলুগুল মারাম: ১৪৪০)
মানুষের হক খেয়ে থাকলে করণীয়
১. অন্যায়ভাবে নেওয়া সম্পদ ফেরত দেওয়া
২. মালিকের কাছে ক্ষমা চাওয়া
৩. খাঁটি মনে তাওবা করা
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘কেউ কাউকে জুলুম করলে সে যেন আজই তার কাছ হতে মাফ করিয়ে নেয়, সেদিন আসার পূর্বে যেদিন তার কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না। সেদিন তার কোনো সৎকর্ম না থাকলে তার জুলুমের পরিমাণ তার নিকট হতে নেয়া হবে আর তার কোনো সৎকর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ হতে নিয়ে তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। (সহিহ বুখারি: ২৪২৯)

