ঈমান আনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো নামাজ। সুরা বাকারার শুরুতেই ইরশাদ হয়েছে, ‘এটি সেই কিতাব; এতে কোনো সন্দেহ নেই। মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক। যারা ঈমান রাখে গায়েবের প্রতি, নামাজ আদায় করে এবং আমি তাদেরকে যা দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা বাকারা: ২-৩)
হাদিস শরিফে এসেছে- ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি: ১. সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল। ২. নামাজ আদায় করা। ৩. জাকাত প্রদান করা। ৪. হজ করা। ৫. রমজানের রোজা রাখা।’ (সহিহ বুখারি: ১/৬)
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর হাতে যখন কেউ ইসলাম গ্রহণ করত তখন তিনি তাকে সর্বপ্রথম নামাজের অঙ্গীকার করাতেন। আগেকার নবী-রাসুলগণও তাওহিদের পরেই নামাজের আদেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদেরকে তো আদেশ করা হয়েছিল একনিষ্ঠভাবে ইখলাসের সাথে আল্লাহর ইবাদত করতে এবং নামাজ কায়েম করতে ...।’ (সুরা বায়্যিনাহ: ৫)
আরও পড়ুন: নবীগণ যে ৬ বিষয়ের দাওয়াত দিয়েছেন
ইসলাম গ্রহণের পরপর নামাজের নিয়ম জানা না থাকা স্বাভাবিক। এ অবস্থায় প্রথম করণীয় হলো, নামাজ শিখে নেওয়া। এটি তেমন কোনো কঠিন কাজ নয়। আপনি ইচ্ছা করলে মাত্র অল্প কিছু সময়েই তা শিখে নিতে পারেন। আপনি চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। যদি চেষ্টা করা সত্ত্বেও পুরাপুরি না পারেন তাহলে যতটুকু পারেন ততটুকুই করার চেষ্টা করুন।
ইসলাম গ্রহণের পর আপনার জন্য সবচেয়ে সহজ হবে ফরজ নামাজগুলো জামাতের সঙ্গে আদায় করা। কারণ এতে আপনার দায়িত্ব অনেক কমে যাবে। আর যদি কোনো কারণে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে না পারেন তাহলে একা একাই পড়ে নিবেন। এবং যতটুকু পড়তে পারেন ততটুকু পড়ে নিবেন।
আরও পড়ুন: নামাজ জামাতে পড়ার তাগিদ কেন?
শুধু সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাহ ছাড়া অন্যকিছু জানা না থাকলে প্রথম অবস্থায় সেগুলো পড়েই রুকু সেজদা ঠিকমতো আদায় করুন, তাতেই নামাজ হয়ে যাবে। মোটকথা, যা জানেন তা পড়েই রুকু সেজদা ঠিকমতো আদায় করেন।
আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে বলেন- لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ‘আল্লাহ তাআলা কারও ওপর সাধ্যের বাইরে কোনো বিষয় চাপিয়ে দেন না।’ (সুরা বাকারা: ২৮৬)
(বাদায়েউস সানায়ে: ১/১১২; আল মাবসুত: ১/৩৭)




