শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ঢাকা

ইসলামে বৃহত্তর স্বার্থে গোয়ান্দাগিরির অনুমতি

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ইসলামে বৃহত্তর স্বার্থে গোয়ান্দাগিরির অনুমতি

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার হলেও বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামে গোয়েন্দাগিরির অনুমতি রয়েছে। বিশেষ করে মানুষকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে এবং জাতীয় স্বার্থে যদি কারো ব্যক্তিগত বিষয় অনুসন্ধানের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে তা বৈধ। 

ইসলামি আইন ও বিচারব্যবস্থার বিধান অনুসারে প্রয়োজন হলে কারও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা যাবে। তবে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা সরাসরি বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের কাছেই হতে হবে। সাধারণ সমাজে তা প্রচার করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে রশাদ হয়েছে, ‘যখন শান্তি বা শঙ্কার কোনো সংবাদ তাদের কাছে আসে, তখন তারা তা প্রচার করে থাকে। যদি তারা তা রাসুল বা তাদের মধ্যে যারা ক্ষমতার অধিকারী তাদের গোচরে আনত, তবে তাদের মধ্যে যারা তথ্য অনুসন্ধান করে, তারা তার যথার্থতা নির্ণয় করতে পারত। …’ (সুরা নিসা: ৮৩)


বিজ্ঞাপন


তবে, কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্যকারো জন্য ব্যক্তিবিশেষের গোয়েন্দাগিরির জায়েজ নেই। কারও দোষ অনুসন্ধান করা এবং অনুমান করে খারাপ ধারণা করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা বেশির ভাগ অনুমান থেকে দূরে থাকো। কেননা, অনুমান কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ। তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না এবং একে অপরের পেছনে নিন্দা করো না।’ (সুরা হুজুরাত: ১২)

আরও পড়ুন: মানুষের গোপনীয় বিষয় খোঁজার ভয়ঙ্কর পরিণাম

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘তোমরা মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি, ভুলভ্রান্তি খুঁজে বের করো না। যে ব্যক্তি অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় ও প্রকাশ করে দেয়, স্বয়ং আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। আর আল্লাহ যার দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করেন তাকে নিজের বাড়িতেই লাঞ্ছিত করেন।’ (আবু দাউদ: ৪৮৮০)

আল্লাহর রাসুল (স.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের কথা গুপ্তভাবে শুনল; অথচ সে তাদের কথাগুলো শুনুক তারা তা পছন্দ করছে না অথবা তারা তার অবস্থান টের পেয়ে তার থেকে দূরে পালিয়ে যাচ্ছে, কেয়ামতের দিন এজন্য তার কানে সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।’ (বুখারি: ৭০৪২)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: যেসব মিথ্যা নিয়ে মানুষ অসতর্ক

মূলত দোষে-গুণে মানুষ। তাই অন্যের দোষ অনুসন্ধান করা ও প্রচার করা মুমিনের জন্য শোভনীয় নয়। আল্লাহ তাআলাও চান, বান্দা দোষ গোপন রাখার গুণে গুণান্বিত হোক। তাই যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দোষ আড়াল করবে, কঠিনতম পরিস্থিতিতে আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বান্দার দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (মুসলিম: ২৫১০, আহমদ: ২৭৪৮৪, ৮৯৯৫)

তবে, রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায়, জালেম, ধোঁকাবাজসহ কঠিন অপরাধীদের চিহ্নিত করতে গোয়ান্দাগিরি করা এবং তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা জায়েজ। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামি বিধি-বিধান মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর