বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

আহলে কিতাব নারীকে বিয়ে করতে চাইলে যা জানা জরুরি

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

আহলে কিতাব নারীকে বিয়ে করতে চাইলে যা জানা জরুরি

ইসলামে আহলে কিতাবধারী তথা আসমানি কিতাবধারী নারীকে বিয়ে করার অনুমতি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘... মুমিন সতীসাধ্বী নারী ও আহলে কিতাবের সতীসাধ্বী নারী তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো...।’ (সুরা মায়েদা: ৫) 

আল্লাহ তাআলা আহলে কিতাব নারীকে বিয়ে করার অনুমতি কেন দিলেন—এ প্রসঙ্গে শাহ ওয়ালি উল্লাহ (রহ.) লিখেছেন, ‘বৈবাহিক জীবনে স্বামীর ভূমিকা প্রভাব বিস্তারকারী হয়। স্ত্রীরা স্বামীদের তত্ত্বাবধানে চলে আসে। ফলে কোনো মুসলিম আহলে কিতাবের নারীকে বিয়ে করলে মুসলিম পুরুষের ধর্মীয় জীবনে প্রভাব বিস্তারের অবকাশ কম থাকে। তাই এ বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা: ২/১৩৩)


বিজ্ঞাপন


ইমাম আলাউদ্দিন কাসানি (রহ.) লিখেছেন, ‘অমুসলিম নারীদের বিয়ে করা বৈধ করা হয়েছে ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে। এর আগে তারা পূর্ববর্তী নবী ও আসমানি কিতাবে ঈমান এনেছে। মুসলমানের সঙ্গে তাদের বিয়ে হলে মুসলিম ব্যক্তি তাদের ইসলামের প্রতি আহ্বান করতে পারবে।’ (বাদায়িউস সানায়ি: ২/২৭০)

আরও পড়ুন: বিয়ে ছাড়াই জীবন কাটিয়ে দিলে কি জান্নাত হারাম?

তবে, আহলে কিতাব ছাড়া অন্য ধর্মের অনুসারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ নয়। প্রচলিত হিন্দু, বৌদ্ধ, বাহায়ি, শিখ ও কনফুসীয় ধর্ম আসমানি ধর্ম হওয়ার বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এসব ধর্মের অনুসারীরা আহলে কিতাব হিসেবে গণ্য হবে না। তাই তাদের সঙ্গে মুসলিম নারী ও পুরুষের কোনো ধরনের বিয়ে বৈধ নয়। 

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা মুশরিক (বহু স্রষ্টায় বিশ্বাসী) নারীকে বিয়ে করো না, যদিও মুশরিক নারী তোমাদের মুগ্ধ করে...। ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা মুশরিক পুরুষের সঙ্গে (তোমাদের নারীদের) বিয়ে দিয়ো না, যদিও মুশরিক পুরুষ তোমাদের মুগ্ধ করে...। ’ (সুরা বাকারা: ২২১) অন্য আয়াতে এসেছে, ‘...তোমরা কাফির নারীদের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না...।’ (সুরা মুমতাহিনা: ১০)


বিজ্ঞাপন


আহলে কিতাব নারীকে বিয়ে করার অনুমতি থাকলেও এক্ষেত্রে কিছু দিক-নির্দেশনা রয়েছে ইসলামি শরিয়তে। পাকিস্তানের শরিয়াহ বেঞ্চের সাবেক বিচারপতি ও ওআইসির ফতোয়া বোর্ডের সদস্য মুফতি তাকি উসমানি বলেন—‘নারীকে বাস্তবেই ধর্মাবলম্বী হতে হবে। বর্তমান যুগের খ্রিস্টানদের মতো হলে চলবে না, যারা নামেমাত্র খ্রিস্টান। আকিদা-বিশ্বাসের দিক থেকে এরা নাস্তিক। দ্বিতীয় শর্ত হলো, বিবাহ ইসলামি শরিয়তসম্মত পন্থায় দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে হতে হবে।’ (ফতোয়া উসমানি: ২/২৫৭)

আরও পড়ুন: বিয়ের উদ্দেশ্যে প্রেম করা জায়েজ?

এছাড়া আরো কিছু শর্ত আছে। যেমন—আহলে কিতাবের নারী সতীসাধ্বী হতে হবে। ইসলামবিদ্বেষী হতে পারবে না। এ বিয়ের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলমানের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকা নিশ্চিত হতে হবে। আর দারুল কুফরের আহলে কিতাবের নারীকে বিয়ে করা যাবে না।

কোনো মুসলিম নারীর যদি ইতিপূর্বে অন্য ধর্মাবলম্বীর সঙ্গে বিয়ে হয়ে গিয়ে থাকে, তার করণীয় কী? এর জবাব হলো- স্বামীকে মুসলিম বানিয়ে নতুনভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবে। সেটা সম্ভব না হলে অতিদ্রুত তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। (আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল: ৬/১৪৩)

আর ইসলাম অনুমোদিত নয়, এমন বিয়ের মাধ্যমে সন্তান জন্ম নিলে নাবালেগ থাকা পর্যন্ত মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে। এ বিষয়ে ইসলামি আইনের গ্রন্থ ‘হেদায়া’য় রয়েছে, ‘স্বামী ও স্ত্রীর কোনো একজন যদি মুসলিম হয়, তাহলে সন্তান তাঁর ধর্ম—অর্থাৎ ইসলাম ধর্মাবলম্বী বলে গণ্য হবে।’ (হেদায়া: ২/৩৪৬)

সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর, সে নিজেই সত্যপথ খুঁজে নেবে। সে-ই তার গন্তব্য স্থির করে নেবে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘দ্বীন গ্রহণে জোর-জবরদস্তি নেই। সত্যপথ ভ্রান্তপথ থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে...।’ (সুরা বাকারা: ২৫৬)

আরও পড়ুন: অবৈধ সম্পর্ক থাকাবস্থায় ইবাদত কবুল হবে?

আহলে কিতাব নারীকে বিয়ে করার অনুমতি থাকলেও কোনো অমুসলিম পুরুষের সঙ্গে মুসলিম নারীর বিয়ে বৈধ নয়। এ প্রসঙ্গে সুরা মুমতাহিনার ১০ নম্বর আয়াতে এসেছে, ‘হে মুমিনরা! যখন তোমাদের কাছে মুমিন নারীরা হিজরত করে আসে, তখন তোমরা তাদের পরীক্ষা করে নাও, তাদের ঈমান সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। অতঃপর যদি তাদের মুমিন বলে জানতে পারো, তাহলে তাদের কাফিরদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ো না। মুমিন নারীরা কাফিরদের জন্য হালাল নয়। আর কাফিররাও তাদের জন্য হালাল নয়...।’ (সুরা মুমতাহিনা: ১০)

ইমাম বুখারি (রহ.)-এর শিক্ষক ইমাম আবদুর রাজ্জাক (রহ.) লিখেছেন, আবু জুবায়ের (রা.) বলেন, আমি জাবের (রা.)-কে বলতে শুনেছি, আহলে কিতাবের নারীরা আমাদের (মুসলমানদের) জন্য হালাল। কিন্তু আমাদের নারীরা তাদের জন্য হারাম।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৬/৪৩)

জায়েদ বিন ওয়াহাব (রা.) বলেন, ‘ওমর (রা.) এই মর্মে পত্র পাঠিয়েছেন যে, মুসলিম পুরুষ খ্রিস্টান নারীকে বিবাহ করতে পারবে। কিন্তু কোনো খ্রিস্টান পুরুষ কোনো মুসলিম নারীকে বিবাহ করতে পারবে না।’ (কানযুলউম্মাল: ১৬/৫৪৮)

কুয়েতের ওয়াকফ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ইসলামি আইন বিশ্বকোষে বলা হয়েছে, ‘মুসলমানের জন্য এমন নারীকে বিবাহ করা হারাম, যার কোনো কিতাব নেই (অর্থাৎ যে কোনো আসমানি গ্রন্থে বিশ্বাসী নয়)।’ (আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যাহ: ৩৫/২৬)আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিয়েসহ সকল বিষয়ে দ্বীনের অনুগামী করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর