সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

খিটখিটে মেজাজ দূর করতে নবীজির উপদেশ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২৪, ১০:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

খিটখিটে মেজাজ দূর করতে নবীজির পরামর্শ

খিটখিটে মেজাজ একটি মানবীয় ত্রুটি। এই ত্রুটি থেকে বের হয়ে আসতে বলে ইসলাম। কারণ এই বদভ্যাসটির কারণে সম্পর্ক নষ্ট হওয়াসহ নানারকম ক্ষতি হয়ে যায়। যারা কঠিন রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, মহান আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে, যারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; আর আল্লাহ মুহসিনদেরকে ভালবাসেন’ (সুরা আলে ইমরান: ১৩৪)

খিটখিটে মেজাজ থেকে বাঁচতে নিচের আমলগুলো করা যেতে পারে।

তাউজ পড়া
দুই ব্যক্তি রাসুল (স.)-এর কাছে বসে পরস্পর গালাগাল করছিলেন। তাদের একজনের চোখ লাল হয়ে উঠল ও গলার শিরা ফুলে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘আমি একটি বাক্য জানি, যদি সে তা পড়ে তাহলে তার এ অবস্থা কেটে যাবে। সে বাক্যটি হলো- أعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْم ‘আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাঝিম।’ অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই’। (মুসলিম: ৬৮১২)

আরও পড়ুন: রাতে শয়তান ভর করলে যে দোয়া পড়ে বাঁ দিকে থুতু মারবেন

চুপ থাকা
রাগের সময় চুপ থাকার কথাটি প্রিয়নবী (স.) তিনবার বলেছেন। চুপ থাকলে রাগ দমন হয়। রাগের ক্ষতি থেকে বাঁচা যায়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা শিক্ষা দাও এবং সহজ করো; কঠিন করো না। যখন তুমি রাগান্বিত হও তখন চুপ থাকো; যখন তুমি রাগান্বিত হও তখন চুপ থাকো; যখন তুমি রাগান্বিত হও তখন চুপ থাকো।’ (মুসনাদে আহমদ: ৪৭৮৬)

শুয়ে পড়া
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যখন তোমাদের কারো রাগ হয় তখন সে যদি দাঁড়ানো থাকে, তবে যেন বসে পড়ে। যদি তাতে রাগ চলে যায় ভালো। আর যদি না যায়, তবে শুয়ে পড়বে।’ (আবু দাউদ: ৪৭৮৪)

অজু করা
অজু করলে রাগ কমে যায়। রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে। আর শয়তান আগুনের তৈরি। নিশ্চয়ই পানির দ্বারা আগুন নির্বাপিত হয়। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন রাগান্বিত হয় সে যেন অজু করে।’ (আবু দাউদ: ৪৭৮৬)

আরও পড়ুন: অজু করে ঘুমানোর বিস্ময়কর ফজিলত

রাতজাগা বন্ধ করা
শারীরিক বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে রাগ সৃষ্টি হলে এ থেকে বাঁচতে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি নবীজির আদেশ মেনে অহেতুক রাতজাগা বন্ধ করা উচিত। প্রিয়নবী (স.) এশার আগে ঘুমানো এবং এশার পর (না ঘুমিয়ে) গল্পগুজব করা অপছন্দ করতেন।’ (বুখারি: ৫৬৮)

রাগ নিয়ন্ত্রণের ফজিলত
কঠিন রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারাকে প্রকৃত বীরত্ব বলে ঘোষণা দিয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘সে ব্যক্তি শক্তিশালী নয়, যে ব্যক্তি কুস্তি লড়ে অন্যকে ধরাশায়ী করে, বরং প্রকৃতপক্ষে সে ব্যক্তিই শক্তিশালী, যে রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে।’ (বুখারি: ৬৮০৯)

আরও পড়ুন: ভুল বোঝাবুঝি দ্রুত নিরসনের উপায় ও ফজিলত

অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাগ নিয়ন্ত্রণ আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে। যে ব্যক্তি রাগ নিয়ন্ত্রণ করে, সে আধ্যাত্মিকভাবে এবং জাগতিকভাবেও পুরস্কৃত হয়। নবীজি (স.) বলেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বান্দার ক্রোধ সংবরণে যে মহান প্রতিদান রয়েছে, তা অন্য কিছুতে নেই।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১৮৯)

রাগ দমনকারীদের জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে নবীজি (স.) বলেন, ‘তুমি রাগ করবে না, তাহলে তোমার জন্য জান্নাত।’ (তিবরানি: ২১)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রাগমুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে উল্লেখিত সুন্নত আমলগুলোর প্রতি মনোযোগী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর