বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষের সন্তুষ্টি খুঁজলে যে ক্ষতি

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৪, ০৬:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষের সন্তুষ্টি খুঁজলে যে ক্ষতি

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন মুমিনের প্রধান লক্ষ্য। যেসব কাজে আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হতে পারেন, সেসবের পেছনে মুমিন ছুটতে পারে না। তার সকল কর্মপ্রচেষ্টা ও ব্যকুলতার মূল রহস্যই হলো আল্লাহকে খুশি করা। এই ব্যাকুলতা থেকে মুমিন বান্দারা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকে প্রতিনিয়ত। আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা পরিত্যাগ করে এবং আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা পালনে সদা সচেষ্ট থাকে। 

আল্লাহর সন্তুষ্টির পরোয়া না করে মানুষের সন্তুষ্টি খুঁজে বেড়ানোর পরিণতি খুব খারাপ। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন مَنِ الْتَمَسَ رِضَاءَ اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ وَمَنِ الْتَمَسَ رِضَاءَ النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ وَكلَهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ ‘যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টির পরোয়া না করে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি খুঁজে বেড়ায়, মানুষের দেওয়া দুঃখ-কষ্ট থেকে বাঁচানোর ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে হলেও মানুষের সন্তুষ্টি খুঁজে বেড়ায়, আল্লাহ তাআলা তাকে মানুষের দায়িত্বে ছেড়ে দেন। (সুনানে তিরিমিজি: ২৪১৪)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: ছোট শিরক সবচেয়ে ভয়ঙ্কর

প্রকৃতপক্ষে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মুমিনের সকল কাজ আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) এর জন্য হতে হবে। মানুষকে খুশি করার জন্য বা অহংকারবশত কোনো কাজ করলে তা আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন না, বরং তা হবে শিরকের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘বলুন, আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য। (সুরা আনআম: ১৬২)

আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, আমি তো তোমাদের মতো একজন মানুষ, আমার প্রতি অহি নাজিল হয় যে, তোমাদের ইলাহ একমাত্র সত্য ইলাহ। কাজেই যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে। (সুরা কাহাফ: ১১০)

আরও পড়ুন: যুগে যুগে শিরকের সূত্রপাত যেভাবে


বিজ্ঞাপন


অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলছেন, ‘বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! এসো সেই কথায়, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই; আমরা যেন আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত না করি, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করি এবং আল্লাহ ছাড়া একে অন্যকে রব হিসেবে গ্রহণ না করি। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে বলুন- তোমরা সাক্ষী থাকো যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম।’ (সুরা ইমরান: ৬৪)

আরও পড়ুন: আল্লাহ মুসলমানদের কেন প্রকৃত মুসলিম হওয়ার নির্দেশ দিলেন

যদি জীবনে কোনো সময় এমন পরিস্থিতি চলে আসে, যে মুহূর্তে পরিবার বা মানুষকে খুশি করতে গেলে আল্লাহর নিষেধ উপেক্ষা করতে হবে, ওই অবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। তখন আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে বলতে শুনেছি- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি আকাঙ্ক্ষা করে তা মানুষের অসন্তুষ্টির কারণ হলেও, মানুষের দুঃখ-কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।’ (তিরমিজি: ২৪১৪)

আর যার জন্য মহান আল্লাহ যথেষ্ট হয়ে যান, গোটা পৃথিবী তার বিরুদ্ধে চলে গেলেও তার কিছুই যাবে-আসবে না। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সবসময় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর