সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ঢাকা

কোরবানির গোশত জমিয়ে রাখা নিয়ে হাদিসে যা আছে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৪, ০৩:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

কোরবানির গোশত জমিয়ে রাখা নিয়ে হাদিসে যা আছে

কোরবানি মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এটি ইসলামের একটি শিয়ার বা মহান নিদর্শন। শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। আল্লাহ তাআলা কোরবানির নির্দেশ দিয়ে বলেন— ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২)

১০ জিলহজ ফজরের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকে কোরবানি দিতে হবে। নিসাব পরিমাণ সম্পদ বলতে বোঝায় সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সব সম্পদ মিলে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমমূল্যের হওয়া।


বিজ্ঞাপন


এই পরিমাণ সম্পদ কারো মালিকানায় কোরবানির দিনগুলোতে থাকলে, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। সরাসরি স্বর্ণ বা রুপা থাকা শর্ত নয়, বরং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সমমূল্যের নগদ অর্থ বা বাড়ি বা ব্যবসায়িক পণ্য বা অন্যান্য আসবাবপত্র কোরবানির নিসাবের অন্তর্ভুক্ত। (তাবয়িনুল হাকায়িক, পৃষ্ঠা: ১০, খণ্ড: ৬)

আরও পড়ুন: এ বছর কত টাকা থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে?

জিলহজে মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানির সময়। তবে সম্ভব হলে জিলহজের ১০ তারিখেই (প্রথম দিনে) কোরবানি করা উত্তম। (মুয়াত্তা মালেক: ১৮৮; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/১৯৮, ২৩; হিন্দিয়া: ৫/২৯৫)

কোরবানির গোশত অধিক সময় জমিয়ে রেখে খাওয়া জায়েজ। কেননা হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা খাও, জমা করে রাখো এবং দান-খয়রাত করো।’(বুখারি: ৫৫৬৯; মুসলিম: ১৯৭২; নাসায়ি: ৪৪২৬; মুআত্তা মালিক: ২১৩৫)


বিজ্ঞাপন


ইসলামের প্রথম যুগে তিন দিনের বেশি কোরবানির গোশত সংরক্ষণের অনুমতি ছিল না। পরবর্তীতে সে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, ‘দরিদ্র আগমনকারীদের কথা বিবেচনা করে আমি সংরক্ষণ করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা নিজে খাও, অন্যকে খাওয়াও; সংরক্ষণও করতে পারো।’ (সহিহ মুসলিম: ১৯৭১)

প্রখ্যাত ফকিহ ইবনু আবদিল বার (রহ.) লিখেছেন, সম্মানিত আলিমগণ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন যে, তিন দিনের পরেও কোরবানির গোশত সংরক্ষণের অবকাশ রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা রহিত। (আত-তামহিদ: ৩/২১৬)

আরও পড়ুন: পরিবারের সদস্য বেশি হলে কোরবানির গোশত যেভাবে বণ্টন করবেন

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, রসুলুল্লাহ (স.) বলেন, আমি তোমাদেরকে তিন দিনের পর কোরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম, যেন সচ্ছল ব্যক্তিরা অসমর্থদের তা উদারভাবে দিতে পারে। এখন তোমরা যা ইচ্ছা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখতে পার। (তিরমিজি: ১৫১০)
 
কোরবানি একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দিতে হয়। তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে না পৌঁছে তাদের গোশত আর না তাদের রক্ত, বরং তার কাছে তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে। এভাবেই তিনি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর তাকবির বল যে, তিনি তোমাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন। যারা সুচারুরূপে সৎকর্ম করে তাদেরকে সুসংবাদ দিন। (সুরা হজ: ৩৫)  

কোরবানির গোশত বণ্টনের উত্তম পদ্ধতি হলো- এক-তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকিনকে এবং এক-তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেওয়া উত্তম। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয়, তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২২৪, আলমগিরি: ৫/৩০০)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরবানির গোশত বিতরণসহ প্রত্যেক আমল সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর