কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এই ইবাদত যেন সঠিকভাবে সম্পাদন হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। নিজের কোরবানির পশু নিজ হাতে জবাই করা মোস্তাহাব। যদি নিজে জবাই করতে না পারে তবে অন্যের দ্বারা জবাই করাবে। এ অবস্থায় নিজে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম। (ফতোয়ায়ে শামি: ৫/২৭২)
নিজে জবাই না করলে এমন কাউকে দিয়ে জবাই করানো উত্তম যিনি জবাইয়ের নিয়মগুলো জানেন। এজন্য বালেগ হওয়া জরুরি নয়। বুঝমান নাবালেগ যদি সঠিক পন্থায় পশু জবাই করে তাহলে তা সহিহ হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, বালেগ-নাবালেগ, পুরুষ-মহিলা যে-ই (পশু) জবাই করুক তা খাও। (মুসান্নাফে আবদুর রাজজাক: ৮৫৫২)
বিজ্ঞাপন
মুজাহিদ (রহ) বলেন, না-বালেগের জবাইয়ে কোনো সমস্যা নেই। (মুসান্নাফে আবদুর রাজজাক: ৮৫৫৪)
আরও পড়ুন
কোরবানির গোশত তিনদিনের বেশি জমিয়ে রাখা যাবে?
গরুর বয়স ২ বছর কিন্তু দাঁত উঠেনি, কোরবানি হবে?
নামে কোরবানি দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
তবে জবাই যেন সঠিকভাবে হয় তাই বালেগ সক্ষম ব্যক্তিরই জবাই করা উচিত। (কিতাবুল আছল: ৫/৪০০; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/২৮৫; ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া: ১৭/৩৯০; আদ্দুররুল মুখতার: ৬/২৯৭)
জবাই করার সময় চারটি রগ কাটা জরুরি। ১. কণ্ঠনালি, ২. খাদ্যনালী, ৩. দুই পাশের মোটা রগ, যাকে ওয়াজদান বলা হয়। এই চারটি রগের মধ্যে যেকোনো তিনটি কাটা হলে কোরবানি শুদ্ধ হবে। কিন্তু যদি দুটি কাটা হয় তবে কোরবানি শুদ্ধ হবে না। (হেদায়া: ৪/৪৩৭)
বিজ্ঞাপন
জবাই করার আগে ছুরি ভালোভাবে ধার দিয়ে নেওয়া মোস্তাহাব। কোরবানির পশুকে এমনভাবে জবাই করা উচিত, যাতে পশুর কোনো প্রকার অপ্রয়োজনীয় কষ্ট না হয়। এমনিভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে জবাই করা উচিত। জবাইকারী ব্যক্তির সঙ্গে যদি কেউ ছুরি চালানোর জন্য সাহায্য করে, তার জন্যও ‘বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার’ বলা ওয়াজিব। (হেদায়া: ৪/৪৩৮; ইমদাদুল ফতোয়া: ৩/৫৪৭, ফতোয়ায়ে শামি: ৯/৪৭৩)




