অজু পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম। অজু ছাড়া নামাজ পড়া যায় না। হাদিসে অজুকে নামাজের চাবি আখ্যা দেওয়া হয়েছে। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘জান্নাতের চাবি হচ্ছে নামাজ, আর নামাজের চাবি অজু।’ (তিরমিজি: ৪) এছাড়াও অজুতে গুনাহ মাফ হয় ও মর্যাদা বৃদ্ধি হয়। (সহিহ মুসলিম: ২৪৪, ২৫১)
রাসুলুল্লাহ (স.) অজুর অঙ্গগুলোতে কোনো স্থান শুষ্ক থাকার ব্যাপারে সাবধান করেছেন। তাই অজু করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কিন্তু অনেকসময় তাড়াহুড়ার কারণে বা অবহেলাবশত নখের ভেতরে পানি প্রবেশ করান না অনেকে। সাধারণত ধুলোবালি বা মাটি রয়ে যায় নখের ভেতর। এ অবস্থায় নামাজ পড়লে নামাজ শুদ্ধ হবে কি না জানতে চান অনেকে।
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, নখের ভেতর মাটি লেগে থাকলেও পানি পৌঁছার ক্ষেত্রে তা প্রতিবন্ধক হয় না। তাই নখের ভেতর কাদা বা ধুলাবালি ঢুকে থাকলেও অজু হয়ে যাবে। তাই নামাজও শুদ্ধ হবে। একারণে নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না।
আরও পড়ুন
যেসব কারণে অজু ভেঙে যায় যেসব কারণে ভাঙে না
অজু করে ঘুমানোর বিস্ময়কর ফজিলত
যেভাবে অজু করলে নবজাতকের মতো নিষ্পাপ
তবে হাত-পায়ের নখ সপ্তাহে একবার কাটা উত্তম। নাফে (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) প্রত্যেক জুমার দিন মোচ ও নখ কাটতেন।
(সুনানে কুবরা, বায়হাকি: ৩/২৪৪; আলবাহরুর রায়েক: ১/১৩, ১/৪৭; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৪, ১/৬৪; ফতোয়া মিন আকাবিলিল মাশায়িখ, পৃ-১৮; আজজাখিরাতুল বুরহানিয়্যা: ১/৩৩৬; ফতোয়া তাতারখানিয়া: ১/২৭৮; আদ্দুরুল মুখতার: ১/১৫৪)
উল্লেখ্য, অজু করার সময় নখে যদি এমন কোনো বস্তু লেগে থাকে, যার কারণে নখ পর্যন্ত পানি পৌঁছতে পারে না; যেমন—মোম, আঠা ও পালিশ ইত্যাদি তাহলে সেগুলো পরিষ্কার করে এমনভাবে ধৌত করতে হবে, যেন সর্বাঙ্গে পানি পৌঁছে। (সুনানে কুবরা: ৩৬৭)




