সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ঢাকা

অমুসলিম দেশে সুপারশপ থেকে মাংস কিনে খাওয়া যাবে?

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

অমুসলিম দেশে সুপারশপ থেকে মাংস কিনে খাওয়া যাবে?

মুসলমানদের যেকোনো গোশত খাওয়ার অনুমতি নেই। দুই শর্তে মুসলিম গোশত খেতে পারে। প্রথমত পশু-পাখি হালাল হতে হবে। দ্বিতীয়ত জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম নিতে হবে। তবেই সেই গোশত মুসলমানদের জন্য খাওয়া জায়েজ। কোনো হালাল পশুও জবাইয়ের সময় যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম নেওয়া না হয়, সেই গোশত মুসলমানদের খাওয়া জায়েজ নেই। এমনকি মুসলিম রেস্টুরেন্টেও ‘যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম না নেওয়া হয়, তাহলে জন্তুটি মৃত (অর্থাৎ মৃত পশুর হুকুমের মতো), তা খাওয়া যাবে না। তবে যদি ভুলবশত (আল্লাহর নাম) ছেড়ে দেয়, তাহলে খাওয়া যাবে।’ (আল বিনায়াহ খ: ১০ পৃ-৬৪৫)

পবিত্র কোরআনের দলিল—وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ অর্থ: ‘যেসব জন্তুর ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়নি, সেগুলো থেকে ভক্ষণ করো না; এ ভক্ষণ করা গুনাহ।’ (সুরা আনআম: ১২১)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: অমুসলিমের তৈরি ইফতার খাওয়া কি জায়েজ?

হাদিস শরিফে এসেছে, আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে ওহি নাজিল হবার আগে জায়েদ ইবনু নুফাইল এর সঙ্গে ‘আসফালি-বালদাহ’ নামক স্থানে সাক্ষাৎ হয়। তখন তাঁর (স.)-এর সামনে দস্তরখান বিছানো হয়। (যেখানে কিছু পাকানো গোশতও রাখা হয়) রাসুল (স.) তা খেতে অস্বীকৃতি জানালেন। তারপর বলেন, আমি সে প্রাণী খাই না, যা তোমরা মূর্তির নামে জবাই করো। আমি শুধু ওই প্রাণীই ভক্ষণ করি যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে। (সহিহ বুখারি: ৩৮২৬, ৩৬১৪)

তবে, যদি আপনার জানা থাকে যে জবাইকৃত পশুটি হালাল এবং ওই পশুটি বিসমিল্লাহ বলে জবাই করা হয়েছে তাহলে আপনি অমুসলিম দেশের সুপারশপ থেকেও গোশত ক্রয় করে খেতে পারেন। এরপরও সবচেয়ে উত্তম হবে যদি আপনি নিজে পশু-পাখি ক্রয় করে এনে নিজেই জবাই করতে পারেন। প্রয়োজনে গোশতের পরিবর্তে শাক-সবজি খাওয়া উচিত হবে, যা হারাম হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বস্তুত সতর্কতার মাধ্যমেই ব্যক্তির ঈমান ও আমল রক্ষা পায়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে সন্দেহজনক জিনিস থেকে বেঁচে থাকবে সে নিজের দ্বীন ও সম্মানকে রক্ষা করবে।’ (বুখারি: ৫২)

আরও পড়ুন: ৮ গুরুতর হারাম কাজে মানুষের অবাধ বিচরণ


বিজ্ঞাপন


অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘কোনো বান্দা ততক্ষণ আল্লাহভীরুদের অন্তর্ভুক্ত হয় না, যতক্ষণ না সে হারামে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে বৈধ জিনিসও পরিহার করে।’ (ইবনে মাজাহ: ৪২১৫) অন্য হাদিসে এসেছে,‘ যে ব্যক্তি সন্দেহজনক কাজে লিপ্ত হলো, সে হারামে পতিত হলো।’ (বুখারি, মুসলিম, মেশকাত: ২৭৬২)

উল্লেখ্য, মুসলিম রেস্টুরেন্ট কিংবা সুপারশপ থেকে যাচাই-বাছাই ছাড়াই গোশত কিনে খাওয়া বৈধ। কেননা ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি হলো মুমিনের প্রতি সুধারণা পোষণ করতে হবে। এরই অংশ হিসেবে মুসলিম হোটেলগুলো থেকে গরু, খাসি বা মুরগির গোশত কিনে খেতে কোনো সমস্যা নেই। তবে যদি কোনো হোটেলের ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানা থাকে যে, সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে বিসমিল্লাহ ছাড়াই জবাই করা হয় বা অমুসলিম কর্তৃক জবাই করা হয়, তাহলে সেখানকার গোশত খাওয়া কোনোক্রমেই বৈধ হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ৬/২৯৯, ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া: ১৭/৪০১, আহসানুল ফতোয়া: ৮/১০৬)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পশু-পাখি জবাইয়ের বিধানসহ ইসলামের সকল বিধি-বিধান যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। মুসলিম উম্মাহর ভুল-ত্রুটি আল্লাহ ক্ষমা করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর