বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ঢাকা

জান্নাতিদের অভ্যর্থনা জানানো হবে যেভাবে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৩, ১২:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

জান্নাতিদের অভ্যর্থনা জানানো হবে যেভাবে

জান্নাতিদের বরণ করা হবে সালামের মাধ্যমে। নেককার বান্দারা যখন হিসাব নিকাশ শেষে জান্নাতের পথে রওনা হবেন এবং জান্নাতের দরজায় পৌঁছবেন তখন জান্নাতের পাহারাদার ফেরেশতারা তাদের সালাম দিয়ে অভ্যর্থনা জানাবেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উন্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌঁছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাকো, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্য তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো।’ (সুরা জুমার: ৭৩)

জান্নাতে তারা পরস্পর দেখা-সাক্ষাতে সালাম বিনিময় করবেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সেখানে তাদের ধ্বনি হবে- ‘হে আল্লাহ! আপনি মহান, পবিত্র’ এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে, ‘সালাম’। (সুরা ইউনুস: ১০)


বিজ্ঞাপন


জান্নাতের অপর নাম দারুস সালাম বা শান্তির নীড়। সেখানে থাকবে না কোনো অশান্তি। জান্নাতিরা অযাচিত কোনো কথাও শোনা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা তথায় অবান্তর ও কোনো খারাপ কথা শুনবে না। তবে শুধু শুনবে সালাম আর সালাম।’ (সুরা ওয়াকিয়াহ: ২৫-২৬)

আরও পড়ুন: জান্নাতের সুখ শান্তি

মৃত্যুর ফেরেশতারাও নেককার বান্দাদের সালাম দিয়ে প্রাণ হরণ করেন। এ প্রসঙ্গে কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘ফেরেশতা যাদের জান কবজ করেন তাদের পবিত্র থাকা অবস্থায়, ফেরেশতারা বলেন—তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষণ হোক। তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ করো।’ (সুরা নাহল: ৩২)

বর্তমান সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সালামের প্রচার-প্রসার খুব গুরুত্বপূর্ণ আমল। কেননা এটি জান্নাতি অভিবাদন।  সেজন্যই রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘হে লোকসকল! তোমরা সালামের প্রসারতা বাড়াও, আত্মীয়তার বন্ধনকে দৃঢ় করো, খাদ্য দান করো, মানুষের প্রগাঢ় ঘুমের সময় রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ো, ফলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসনাদে আহমদ: ২৩৭৮৪; তিরমিজি: ২৪৮৫)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: দুই অঙ্গের সঠিক ব্যবহারে জান্নাতের নিশ্চয়তা

সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়। সৃষ্টি হয় পারস্পরিক ভালোবাসা ও মহব্বত। আবু বকর ইবনে আবু শায়বা (রা.) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না ঈমান আনবে আর তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অন্যকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের তা বলে দেব না যা করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তা হলো, তোমরা পরস্পরে বেশি সালাম বিনিময় করবে।’ (সহিহ মুসলিম: ১০০)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বেশি বেশি সালামের প্রচার-প্রসার করার তাওফিক দান করুন। জান্নাতে যাওয়ার জন্য কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর