মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০২৪, ঢাকা

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে যে কৌশলে মাঠে থাকবে বিএনপি

মো. ইলিয়াস
প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:২৬ এএম

শেয়ার করুন:

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে যে কৌশলে মাঠে থাকবে বিএনপি

নির্যাতন, হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ২০২২ সাল পার করেছে মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। আগামী বছরের (২০২৪) প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি ও আন্দোলন ইস্যুতে অগ্নিপরীক্ষায় বিএনপি। দাবি আদায়ের পূর্ব পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে দলটি। পরিস্থিতি বুঝে কৌশল ও কর্মসূচিতেও আসবে পরিবর্তন।

গত বছরের শেষের দিকে উত্তপ্ত ছিল রাজনৈতিক মাঠে। সেই তুলনায় চলতি বছর রাজনীতির মাঠ আরও বেশি উত্তপ্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারের পতন ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে মাঠে থাকবে বিএনপি। ইতিমধ্যে সরকারের পতন ও সংসদ বিলুপ্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু করেছে বিরোধী দলগুলো।


বিজ্ঞাপন


এদিকে বাংলাদেশের রাজনীতির গতির প্রকৃতির দিকে নজর রয়েছে বহির্বিশ্বেরও। চলতি বছরে এই নজরদারি আরো বাড়তে পারে। বেশকিছু দেশ ও সংস্থা বাংলাদেশে একটি 'নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য' নির্বাচন দেখতে চায়। নির্বাচন নিয়ে সরকারের ওপর এই ধরনের চাপ ইতিমধ্যে তৈরি করেছে তারা। এই চাপ নতুন বছরের রাজনীতির গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

বিএনপিও নিজেদের দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

>> আরও পড়ুন: জোট ত্যাগের ঘোষণা নিয়ে কী বলছে বিএনপি-জামায়াত

বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা মনে করছেন, ২০২৩ সাল তাদের জন্য কঠিন এক চ্যালেঞ্জের বছর। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে চলমান আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প দেখছেন না তারা। তারা বলছেন, আন্দোলন দমন করতে সরকার আরো কঠিন হবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটা মাথায় রেখেই চলমান আন্দোলনে রাজপথে থাকবে দলটি। বিশেষ করে সরকার বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে বিজয় অর্জনের কোনো বিকল্প দেখছে না বিএনপি। কারণ এবার চলমান আন্দোলনে ব্যর্থ হলে নেতাকর্মীদের কঠিন মাশুল দিতে হবে।


বিজ্ঞাপন


তারা মনে করেন, ক্ষমতাসীন দল মামলাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে। এক্ষেত্রে সক্রিয় নেতাদের গ্রেফতার করা হতে পারে। ইতোমধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী আটক হয়েছেন।

দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রাম সামনে রেখে আরো কৌশলী হবে বিএনপি। এরমধ্যে রয়েছে- চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে গ্রেপ্তার এড়ানো ও নেতাকর্মীদের কারামুক্ত করা। নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা এবং সদ্যঘোষিত ১০ দফা বাস্তবায়ন করা।

এদিকে রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখার পক্ষে জনমত তৈরিতে ইতিমধ্যে দেশের জেলা সফর করছেন বিএনপির শীর্ষনেতারা।

>> আরও পড়ুন: বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে বিএনপি

সূত্র মতে, চূড়ান্ত আন্দোলন যাওয়ার পূর্বে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে ঐক্য আরও মজবুত করবে বিএনপি। নিজেদের মধ্যে যাতে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন নেতারা। ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রলোভন দেখিয়ে জোট ভাঙ্গার চেষ্টা হতে পারে। এ বিষয় সতর্ক থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সেজন্য সমমনা অনেক ছোট দলের আবদারকে গুরুত্ব দেবে বিএনপি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে কোনো উৎসাহ দেখাবে না বিএনপি। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করেই নতুন সিদ্ধান্ত নেবে দলটি। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সমঝোতা না হলে নির্বাচনের ছয় মাস আগে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে বিএনপি। অবশ্য আসন্ন রোজার আগেই সরকার পতন আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছে দলটি। এ বিষয়ে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১১ দলের জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও ১২ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা।

এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ জানুয়ারি সব বিভাগীয় শহরে ৪ ঘণ্টার গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এভাবে মানববন্ধন, লংমার্চ, অনশন ও সমাবেশের আরও কর্মসূচি আসতে পারে। পরিস্থিতি বুঝে কর্মসূচিতে আসবে পরিবর্তন।

>> আরও পড়ুন: ‘জগাখিচুড়ি জোট’ নিয়ে বিএনপি আবার ধরা খাবে: কাদের

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, ২০২৩ সাল শুধু আমাদের জন্য নয়, দেশের সব মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রত্যাশা দেশের মানুষ এ বছর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে। বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনবে। সরকার পতনের ১০ দফা বাস্তবায়নই নতুন বছরে বিএনপির চ্যালেঞ্জ। এছাড়া চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব কারাবন্দিকে মুক্ত করা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার ব্যবস্থা করা।

স্থায়ী সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা মেলইকে বলেন, ২০২৩ সাল বিএনপির একার কোনো বিষয় নয়। এই চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ, বাংলাদেশের মানুষের অধিকারের চ্যালেঞ্জ, বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ, আইনের শাসনের চ্যালেঞ্জ, বাকস্বাধীনতার চ্যালেঞ্জ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার চ্যালেঞ্জ, টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ। বিএনপির দায়িত্ব জনগণকে সাথে নিয়ে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা, এটা বিএনপি করছে। দেশে গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে না, ভোটাধিকার, জীবনের নিরাপত্তা, বাংলাদেশ একটি নির্বাচিত সরকার হবে, নাকি দখলদার সরকার থাকবে- এই চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশকে জয়ী হতে হবে, বিএনপিকে নয়। আমরা নিশ্চিত বাংলাদেশের মানুষ যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তখনই জয় হয়েছে। এবারও তারা জয়ী হবে।

>> আরও পড়ুন: ‘বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ঢাকা মেইলকে বলেন, বিএনপি ১০ দফা দাবি আদায়ের যে আন্দোলনে রয়েছে এরমধ্যে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, নেতাকর্মীদের মুক্তি- সব মিলিয়ে বিএনপির জন্য অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করেই এসব আদায় করতে হবে। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে। তা না হলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরাতে হবে। বিএনপির বিভাগীয় কর্মসূচি ও গণমিছিলে নেতাকর্মীদের যে অংশগ্রহণ, মানুষের যে সমর্থন, এটা যদি আমরা এগিয়ে নিতে পারি তাহলে অবশ্যই আমরা সফল হবো এবং দাবিগুলো আদায় করতে সক্ষম হবো।

এমই/জেএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর