শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘যে বটতলায় কোরআন তিলাওয়াতে শোকজ হতো, সেখানেই শিবিরের প্রকাশনা উৎসব’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

‘যে বটতলায় কোরআন তিলাওয়াতে শোকজ হতো, সেখানেই শিবিরের প্রকাশনা উৎসব’
বক্তব্য দেন সলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এসএম ফরহাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঐতিহাসিক বটতলায় একসময় কোরআন তিলাওয়াত করলে শিক্ষার্থীদের শোকজ করা হতো, ইসলামী সংস্কৃতিচর্চার আয়োজন করায় বিচারের মুখোমুখি হতে হতো, সেখানেই এখন প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা উৎসব। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের ত্যাগের বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী সংস্কৃতিচর্চার এই পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এসএম ফরহাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ছাত্রশিবির আয়োজিত প্রকাশনা উৎসবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এসএম ফরহাদ বলেন, ‘আজ এখানে দাঁড়িয়ে আমরা কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করতে চাই। যে বটতলায় কোরআন তিলাওয়াত করলে শোকজ নোটিশ আসত, ভিসি অফিস মসজিদের তারাবির নামাজের কারি সাহেবের চাকরি চলে যেত, রমজানকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান বা কোনো ইসলামী সংস্কৃতি তুলে ধরলে শিক্ষার্থীদের বিচারের মুখোমুখি করা হতো- আজ সেই বটতলাতেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা উৎসব হচ্ছে। এখানে ইসলামের ইতিহাস, মুসলিম ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শহীদদের রক্ত ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী সংস্কৃতিচর্চা করতে গিয়ে কাউকে শোকজের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। কোনো হাফেজকে কোরআন তিলাওয়াতের কারণে চাকরি হারানোর ভয় করতে হচ্ছে না, কোনো শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে না।

বিগত দেড় দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে এসএম ফরহাদ বলেন, ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে শিবিরের কোনো প্রকাশনা পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে বের করে দেওয়া হতো। কারও কাছে ডায়েরি বা ক্যালেন্ডার পাওয়া গেলে তাকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা দেওয়া হতো। এমনকি মেস থেকে শিক্ষার্থীদের চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার পর তাদের হাতে অস্ত্র ছিল এবং তারা পুলিশের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন বলে প্রচার করা হতো। অথচ তাদের সামনে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের উপাদান হিসেবে সাজিয়ে রাখা হতো শিবিরের ডায়েরি, ক্যালেন্ডার ও ম্যাগাজিন- এমন অভিযোগ করেন তিনি।

263

তিনি আরও বলেন, ‘আজ এই ঐতিহাসিক বটতলায় দাঁড়িয়ে পুরো জাতির সামনে আমরা আমাদের সেই সব প্রকাশনা তুলে ধরেছি। দেশবাসী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা এসে নিজেরাই পর্যবেক্ষণ ও বিচার করুন- কী উপাদান আসলে বিগত ফ্যাসিবাদের জন্য ভয়ের কারণ ছিল? মূলত আমরা ইসলামের কথা বলতাম, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতাম। আমরা চাইতাম তরুণ প্রজন্ম একটি আদর্শ ও আত্মমর্যাদাশীল প্রজন্ম হিসেবে গড়ে উঠুক এবং আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় প্রস্তুত হোক। আর এই সত্যের বাণীকেই তারা ভয় পেত।’

শিবিরের প্রকাশনা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে এসএম ফরহাদ বলেন, শত জুলুম ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও কোনো বছরই সংগঠনটির প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ থাকেনি। একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণ, সমাজের কাঠামোগত সংস্কার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনা জাগ্রত রাখার লড়াই ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর