বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার চায় লেবার পার্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার চায় লেবার পার্টি
নির্বাচন কমিশনে লেবার পার্টির নেতৃবৃন্দ। ছবি: ঢাকা মেইল

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদেশে অবস্থানরত যোগ্য ও নিবন্ধিত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত, প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণারও দাবি জানিয়েছে দলটি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা জানান দলটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান।বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত। এসময় সিইসির কাছে ১০ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেয় দলটি।

বৈঠক শেষে মোস্তাফিজুর রহমান ইরান সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে লেবার পার্টির পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বন্ধ রাখার জন্যও বলা হয়েছে। 

ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়াসহ প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে বলেও দাবি জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্মারকলিপিতে দলটি জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে জনগণ স্থানীয় পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন, যোগাযোগ, অবকাঠামো, পানি ও স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠনের সাংবিধানিক ভিত্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নাগরিকদের কার্যকর অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

এতে আরও বলা হয়েছে, দেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত ও বসবাসরত। তারা রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে দেশের 

অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রেরণ করছেন। বিগত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাদের ভূমিকা ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের অনেকের স্থায়ী ঠিকানা, পরিবার, সম্পত্তি, ব্যবসা ও সামাজিক সম্পর্ক নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। কিন্তু বিদেশে অবস্থান করার কারণে এসব বাংলাদেশি নাগরিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁদের ভোটাধিকার কার্যকরভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ থেকে বাস্তবে বঞ্চিত হন। ফলে দেশের অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্থানীয় গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ সীমিত থাকে।

স্মারক লিপিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে আইনগত কাঠামোর মধ্যে এসেছে। নির্বাচন কমিশনও বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে।

এতে দলটি দাবি করে, জাতীয় নির্বাচনে অর্জিত অভিজ্ঞতা, ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন ও বিধিমালা সংশোধন, নতুন বিধান প্রণয়ন অথবা নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির ১০ দফা দাবি

১. আসন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের নির্বাচনে বিদেশে অবস্থানরত যোগ্য ও নিবন্ধিত বাংলাদেশি ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

২. জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত ও প্রস্তুতকৃত IT-supported Postal Voting ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রবাসী পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৩. প্রবাসী ভোটারদের এনআইডি ও ভোটার তথ্য যাচাই করে তাদের বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভোটার এলাকা, ওয়ার্ড এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সঠিকভাবে সংযুক্ত করতে হবে।

৪. অনলাইন নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই, ব্যালট প্রেরণ, ব্যালট ফেরত গ্রহণ, সংরক্ষণ ও গণনার ক্ষেত্রে নিরাপদ, স্বচ্ছ, নিরীক্ষা যোগ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।

৫. একই ভোটার যাতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি দেশে উপস্থিত হয়ে পুনরায় ভোট দিতে না পারেন, সে জন্য কার্যকর দ্বৈত ভোট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. যেসব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে প্রবাসী ভোটারের পোস্টাল ভোটের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান নেই, সেসব আইন ও বিধিমালা দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।

৭. বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন ও ভোটদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নাগরিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী ভোটাধিকার বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি সময়সীমাভিত্তিক রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে।

৯. প্রয়োজন হলে সীমিতসংখ্যক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রবাসী পোস্টাল ভোটিং চালু করে তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

১০. প্রবাসী ভোটাধিকার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের অনিশ্চয়তা দূর করে যথাশীঘ্র নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

এমএইচএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর