বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

কবে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

কবে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, আগামী বছরের প্রথম দিকে এসব নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয় এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী বছর ৬ জুনের মধ্যে সব নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনই কোনো ঝুঁকি দেখছেন না বলেও জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দফতর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এ কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ব্যবহারের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্থানীয় সরকারের যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান আছে এলজিইডি সদর দফতর, সমস্ত সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডির দফতরগুলো, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য এবং সারা বাংলাদেশের যত হাটবাজার বা গ্রোথ সেন্টার আছে এটা সংখ্যা ৬ হাজার ৫৪৪টি। এই ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের রুফটপে বা ছাদে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছি। এজন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা এডিবি বরাদ্দ থেকে টাকা ছাড় করেছি এবং আলাদা আলাদা চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই কর্মসূচি আগামী জানুয়ারির ২৭ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে টাকা ছাড় করেছি ৩৭০ কোটি টাকা।

মীর শাহে আলম বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে আমরা একটা স্ট্যান্ডার্ড হিসাব নিয়েছি এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও তার একটা হিসাব দিয়েছে যে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ছাদে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে খরচ হবে প্লাস-মাইনাস ৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। এই ৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকার হিসাবকে প্লাস-মাইনাস করেই আমরা বাংলাদেশের সমস্ত ইউনিয়ন পরিষদ যেখানে বিল্ডিং আছে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। সাড়ে তিন হাজার ইউনিয়ন পরিষদে আমরা টাকা ছাড় করেছি।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের হাটবাজারের সংখ্যা সারা বাংলাদেশে ৬ হাজার ৫৪৪টি। হাটবাজারের যে অর্থ উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে ব্যয় করা হয়, এর ১৫% এবং ১০% টাকা সংশ্লিষ্ট হাটের উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট হাটের ব্যয় করার জন্য নীতিমালাতে নির্ধারিত আছে। আমরা টাকাও পাঠিয়েছি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে আলাদা চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে যে, হাটবাজার উন্নয়নের যে টাকা, এই টাকা থেকে তারা তাদের হাটের যে রুফটপগুলো বা ছাদগুলো আছে সেই ছাদে তারা প্যানেল তৈরি করে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তারা ব্যবহার করবে।

মীর শাহে আলম বলেন, আমাদের টার্গেট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিত্যক্ত ছাদকে ব্যবহার করে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাচ্ছি প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট। এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা যে ১৫০ মেগাওয়াট ব্যবহার করবেন, আর বাকি ১৫০ মেগাওয়াট সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্যাকেজ অনুযায়ী নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসাবে জাতীয় গ্রিডে এই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করবে।

তিনি বলেন, বিক্রি করলে আমরা হিসাব করে যেটা দেখেছি, আমরা যে টাকা ছাড় করছি এবং তারা যে টাকা ব্যয় করবে, ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে তারা যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে জাতীয় গ্রিডে দিয়ে বিক্রি করে বা গ্রিডে দিয়ে বিক্রি করে টাকা পায়, তাহলে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ব্যয়কৃত অর্থ আমাদের উঠে আসবে।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর