কোনো একক দেশ বা শক্তির পক্ষে একা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে বহুপাক্ষিক উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব শান্তি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ইস্ট লেক আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া এক আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশের বর্তমান ও সাবেক নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উন্নয়ন ও শান্তিকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আমন্ত্রণে বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্লেনারি অধিবেশনে বক্তব্য দেন সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন।
বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ ও সংঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সামরিক সংঘাত, দখলদারত্ব, পরাশক্তির প্রতিযোগিতা, অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও সামরিকীকরণের পাশাপাশি দারিদ্র্য, বৈষম্য, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু সংকট বিশ্বশান্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
শান্তিকে শুধু ‘যুদ্ধের অনুপস্থিতি’ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সমতা, গণতান্ত্রিক অধিকার, মানুষের খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কাজের অধিকার নিশ্চিত করাও স্থায়ী শান্তির অপরিহার্য ভিত্তি।

বক্তব্যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সিপিবি সভাপতি বলেন, জনগণের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায্য আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কখনো স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
একইসঙ্গে তিনি রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সিপিবির পক্ষ থেকে সাতটি প্রস্তাব তুলে ধরেন সাজ্জাদ জহির চন্দন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শান্তি ও উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।
পাশাপাশি শ্রমিক, কৃষক, নারী, যুবসহ সকল স্তরের জনগণের অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদার করার মধ্য দিয়েই পৃথিবীকে প্রাণ ও প্রতিবেশের জন্য নিরাপদ করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিপিবি সভাপতি বলেন, বিভিন্ন দেশ ও জনগণের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে একত্রিত করেই শান্তির পথ নির্মাণ করতে হবে। পারস্পরিক সম্মান, সমতা, সংলাপ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কেউ যুদ্ধের শিকার হবে না।

সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের উপমন্ত্রী লু কাংয়ের সঞ্চালনায় প্লেনারি অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পেং চিংহুয়া, সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং এবং হুবেই প্রাদেশিক কমিটির সেক্রেটারি গুয়ান ঝিউ।
এ ছাড়া মৌরিতানিয়ার জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাম্বা মেগাত, মালয়েশিয়ার সিনেটের ডেপুটি স্পিকার নুর জাজলান বিন মোহামেদ, বুলগেরিয়ার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানা ত্রেঙ্কোভা, রাশিয়ার স্টেট ডুমার সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান সার্গেই নিকোলায়েভিচ বাবুরিন এবং জাপানের সমাজকর্মী ও গবেষক তাকাকাগে ফুজিতাও বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
আরএনবি/এফএ




