সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে নিউইয়র্কে বিএনপি-আ.লীগের মধ্যে উত্তেজনা

বোরহান উদ্দিন, (নিউইয়র্ক) যুক্তরাষ্ট্র থেকে
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে নিউইয়র্কে বিএনপি-আ.লীগের মধ্যে উত্তেজনা

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ও শক্তির মহড়া লক্ষ্য করা গেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থান এবং একপর্যায়ে অনেকটা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যাওয়ায় এই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ থেকে রওনা দেওয়ার পর জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে সমবেত হন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঠিক একই সময়ে কাছাকাছি দূরত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও জড়ো হয়ে পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

9

পরিস্থিতি দ্রুত অবনতিশীল হয়ে হাতাহাতি ও গালিগালাজে রূপ নেয়। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টানানো বিএনপির কয়েকটি ব্যানার আওয়ামী লীগের কর্মীরা ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় এলাকায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রায় অর্ধশতাধিক দাঙ্গা পুলিশ ও নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেন এবং প্লাজার মাঝখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার পরও তাদের প্রস্তুতিতে কোনো ভাটা পড়েনি। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার জেএফকে বিমানবন্দরে শত শত নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন।

নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির প্রেসিডেন্ট হাবিবুর রহমান সেলিম ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে সফল করতে এবং নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসকে বাধাগ্রস্ত করতে স্বৈরাচারের দোসররা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছে। আমরা সম্মিলিতভাবে তাদের প্রতিহত করেছি।

দীর্ঘ ২০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ৩৫ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

8

স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে যাত্রা করেন তিনি। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের। তাদের স্বাগত জানাবেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী। এবার প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর স্মরণীয় করে রাখতে নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন ধরনের পোস্টার ও ব্যানার লাগিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া গত এক মাস ধরে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি সভা করেছেন তারা।

অন্যদিকে তারেক রহমানের সফর ঠেকাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নেতাকর্মীরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর মধ্যে রোববার রাতে জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি বাজারের সামনে বিএনপির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। এতে নেতৃত্ব দেন নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তোফায়েল চৌধুরী লিটন এবং নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. জসিম উদ্দিন (ভিপি) সহ আরও অনেকে।

একপর্যায়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক-দুজনকে ধরেও ফেলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ, যুবলীগ নেতা মিজানসহ আরও অনেকে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেওয়ার সময় তারা বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন।

এদিকে ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার খবর পেয়ে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ (NYPD)-এর বিপুলসংখ্যক সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থান নেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ এবং কঠোর সতর্ক অবস্থানের কারণে অপ্রীতিকর কোনো সংঘাত ঘটেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই পক্ষের উসকানিমূলক তৎপরতা বন্ধ হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

এ সময় দেখা গেছে, পুলিশের সদস্যরা দুই দলকে দুই দিকে নিয়ে যান। আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের সদস্যরা উচ্চস্বরে নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।

বিইউ/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর