মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ফের আত্মহত্যা চেষ্টা মেঘমল্লার বসুর, লিখলেন ‘বাবার পাশে সমাধি দিয়েন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ফের আত্মহত্যা চেষ্টা মেঘমল্লার বসুর, লিখলেন ‘বাবার পাশে সমাধি দিয়েন’
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা ও জাতীয় পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসু। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা ও জাতীয় পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, পাকস্থলী ওয়াশ করার পর তিনি এখন শঙ্কামুক্ত। তবে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মেঘমল্লার বসুর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেখে তার খোঁজ শুরু করেন সহপাঠী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা। সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেটের সামনে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

এস এম ফরহাদ জানান, প্রথমে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা শুরু হয়নি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার পাকস্থলী ওয়াশ করেন। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত থাকলেও কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।

উদ্ধারের আগে ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে মেঘমল্লার বসু নিজের হতাশা, অপরাধবোধ ও মানসিক সংগ্রামের কথা লিখেছেন। সেখানে তিনি মায়ের প্রতি নিজের দায়বোধের কথা উল্লেখ করেন এবং তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মায়ের পাশে থাকার অনুরোধ জানান।

এর আগে ফেসবুকে একটি সুইসাইড নোট পোস্ট করেছেন মেঘমল্লার বসু। এতে তিনি লিখেছেন, ‘জীবনটা একটা বৃত্তের মতো। অনেক ঘুরে, অনেক কিছু করে নিজেকে আবার শূন্যে আবিষ্কার করার মতো। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, দুইটা আলাদা আলাদা টাইম স্প্যানের যেকোনো একটা সময় মরে গেলে খুব ভালো হইত। একটা ২০২০ সালের গোঁড়ায়, আমার শেষ বাংলা বিতর্কের দিন, গভর্নমেন্ট সাইন্স কলেজের ফাইনালটার পরে। আরেকটা মনে হয় গত বছর এরকম একটা সময়। ডাকসু নির্বাচনের পর। দুইটা সময়ই আমি অনেক পূর্ণ ছিলাম। যখন মানুষ পূর্ণ থাকে তখন সে ভুলে যায় শূন্যতাই তার নিয়তি।’ 

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হতাশা আর অপরাধবোধ ছাড়া আমার আর কিছুই নাই। আমি সবচেয়ে বড় অপরাধ করছি আমার মা’র সাথে। আমি জানি তার আর কেউ নাই। অথচ তাও আমি এই পথ বেছে নিচ্ছি। কী করব! কোনোভাবেই তো এই চক্র থেকে বের হতে পারছি না। আর কত দিন সম্ভব? আমি জানি আপনারা আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। আপনারা পারলে আমার মাকে একটু বাঁচায়ে রাইখেন। মিশু ভাই, নূর আপু, আরাফাত ভাই, উৎপল দা, নিমাই কাকু এরা সবাই মিলে কত চেষ্টা করল আমারে বাঁচায়ে রাখার। আমি সবাইকে ব্যর্থ করে দিয়ে যাচ্ছি।’

মেঘমল্লার লিখেছেন, ‘আপনাদের সবার প্রতি একটা একান্ত অনুরোধ হল আমার প্রাক্তন প্রেমিকা চূড়াকে যেন কোনোভাবেই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা না হয়। আমাকে জীবনে কোনো মানুষ এত ভালোবাসা দেয় নাই, যতটা উনি দিসেন। আমার গত এটেম্পটের পর সবাই ভেবেছে দোষ উনার। উনি একটা ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। অথচ বাস্তবতা হল আমি উনাকে যত ইনসিকিউরিটি অনুভব করাইসি, তাতে উনার দশ বার অ্যাটেম্পট করার কথা ছিল।’ 

তিনি বলেন, ‘উনি আমার জন্য শুধু করেই গেছেন, কিছুই পান নাই। উনি যে কষ্ট আমার থেকে পাইসেন, তা আর এক ছটাকও বাড়লে আমার অনেক পাপ বাড়বে। এখনও উনি উনার মাকে নিয়ে একটা কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে আছেন। আমার অবস্থা নিয়ে উনাকে কেউ কিছু বললে বা মনে করলে শুধুই আমার পাপ বাড়বে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার বন্ধুরা, সহযোদ্ধারা সবার কাছে আমি ঋণী ও পাপী। আমি অবশ্য আমার ব্যক্তিজীবনের প্রোটেকশানটা পাই নাই, আমার রাজনৈতিক পরিসর থেকে। সে সব কথা থাক। আর বলে কী হবে। বাবার ব্যাংকের কী যেন একটা লোন আছে। ওইটা কেউ একটু শোধ করে দিয়েন। হুদাই আমার চিকিৎসা করাইতে গিয়ে টাকা খরচ কইরেন না কেউ। আমারে পারলে বাবার পাশে সমাধি দিয়েন।’

এর আগে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন মেঘমল্লার বসু। সে সময় তাকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল জানিয়েছিলেন, একাধিক ঘুমের ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর