একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের প্রায় ১৩ বছর পর করা আপিল গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশের শুনানি চার সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য না করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে সতর্ক করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত জানান, সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটির পর আপিলের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানির জন্য একটি দিন নির্ধারণ করা হবে। প্রায় ৪ হাজার ৯১৫ দিন পর দায়ের করা এ আপিল গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে তখন সিদ্ধান্ত হবে।
আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির কারণে আদেশ দেওয়া হয়নি। গত ৩১ আগস্ট আপিল বিভাগ ৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আদেশের দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় করা আবেদনে আবুল কালাম আযাদ আপিল দায়েরে বিলম্ব মার্জনা, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত এবং পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচারের (কমপ্লিট জাস্টিস) আবেদন করেছেন।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর আপিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। তবে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি রায় ঘোষণার সময় আবুল কালাম আযাদ বিদেশে পলাতক থাকায় তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারেননি বলে তার পক্ষের দাবি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়। ফরিদপুরের বাসিন্দা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে একাত্তরে ১৪ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে হত্যা, দুই নারীকে ধর্ষণ, অপহরণ এবং অগ্নিসংযোগসহ একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের মার্চে পাকিস্তান হয়ে তার দেশে ফেরার খবর প্রকাশিত হয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় দণ্ড স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২২ অক্টোবর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে। তবে শর্ত ছিল, তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল করতে হবে।
পরে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি ও প্রয়োজনীয় নথি চেয়ে আবেদন করেন আবুল কালাম আযাদ। শুরুতে তাকে কারাগারে পাঠানোর মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হলেও দণ্ড স্থগিতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরে তাকে মুক্ত অবস্থায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর তিনি আপিল দায়ের করেন।
আরএনবি/এমআই



