হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নয় দফা দাবি তুলে ধরেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় এ সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী মাদরাসায় পৌঁছালে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অতিথি আপ্যায়ন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হেফাজত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং সংসদ সদস্য সরোয়ার আলম ও গিয়াস কাদের চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কাছে যান এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

বৈঠক শেষে মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিশেষ প্যান্ডেলও তৈরি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দাবি
মতবিনিময় সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে ইসলাম ও পবিত্র কোরআনের অবমাননা রোধে আইন প্রণয়ন, কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন না করা, বিভিন্ন আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি কার্যকরসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। হেফাজতের দাবিগুলো হলো—
১. মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।
২. কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।
৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি মাদরাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

৫. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
৬. কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।
৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।
৮. আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেম-ওলামাকে অংশীদার করা।
৯. বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার ধারা অব্যাহত রাখা। পাশাপাশি ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।
জেবি




