শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

ছাত্রশক্তি নেতা আলিফের চোখে দৃষ্টিশক্তি ফেরার সম্ভাবনা নেই: চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ছাত্রশক্তি নেতা আলিফের চোখে দৃষ্টিশক্তি ফেরার সম্ভাবনা নেই: চিকিৎসক
জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আলিফ চৌধুরী

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলায় গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর ক্ষতিগ্রস্ত চোখে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার সফল হলেও আহত চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) আলিফের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের পর আলিফের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে এনআইওএইচের দায়িত্বরত ডা. সামিয়া নুজহাত বলেন, অপারেশনের প্রায় আধা ঘণ্টা পর রোগীর জ্ঞান ফিরে এসেছে। বর্তমানে তার রক্তচাপ, পালস, অক্সিজেন স্যাচুরেশনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক স্বাভাবিক রয়েছে। অপারেশন-পরবর্তী স্বাভাবিক ব্যথা থাকলেও সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রোগী নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কী দিয়ে আঘাত লেগেছে। তবে এটি কোনো ধারালো বস্তু, যেমন পাথর বা ইটের টুকরো হতে পারে। আঘাতের কারণে চোখের গোলক (আইবল) ফেটে যায় এবং ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। পাশাপাশি চোখের ওপরের ও নিচের পাতা (আইলিড) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চোখের পানি নাকে যাওয়ার নেত্রনালী (ল্যাক্রিমাল ডাক্ট) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ডা. সামিয়া নুজহাত জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গোলক, চোখের পাতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত নেত্রনালী মেরামত করা হয়েছে। তবে এ ধরনের গুরুতর আঘাতের পর কিছু স্থায়ী প্রভাব থেকে যেতে পারে। আগের মতো স্বাভাবিক গঠন পুরোপুরি ফিরে নাও আসতে পারে।

তিনি বলেন, চোখটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অপারেশনের পর ক্ষত কতটা ভালোভাবে সারে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় দৃষ্টিশক্তি আগের মতো ফিরে আসার সম্ভাবনা খুব কম।

তিনি আরও বলেন, চোখের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হতে পারে। কিন্তু আলিফের ক্ষেত্রে পুরো চোখের গঠনই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জন ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা. আব্দুল আহাদ জানান, অস্ত্রোপচারের আগেই সিলেটে প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা আক্রান্ত চোখে নো পারসেপশন অব লাইট (এনপিএল) শনাক্ত করেন। অর্থাৎ ওই চোখে আলো দেখার ক্ষমতাও ছিল না এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকেরা।

ডা. আব্দুল আহাদ বলেন, অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্য ছিল মূলত ক্ষতিগ্রস্ত চোখের সংক্রমণ যেন অন্য চোখ বা আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে না পড়ে। একই সঙ্গে চোখের বাহ্যিক গঠন যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা এবং চোখটি যেন গর্ত হয়ে না যায়, সেটিও অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্য ছিল।

তিনি আরও বলেন, অপর চোখটির দৃষ্টিশক্তি এখনো ভালো রয়েছে। বর্তমানে সেটির দৃষ্টিশক্তি ৬/৯, যেখানে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ৬/৬ ধরা হয়। আঘাতের কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা ঝাপসা দেখলেও চিকিৎসকদের আশা, এটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে।

চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত চোখের রেটিনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গঠন সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিটি স্ক্যানেও চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টি দেখা গেছে। তাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গঠন মেরামত করা গেলেও ওই চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।

চিকিৎসকদের মতে, চোখের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা থাকে। বিদেশে নেওয়া হলেও চিকিৎসা পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য হবে না এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

এর আগে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ শেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপি এই হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপিকে দায়ী করেছে। পরে শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের হলে আরও এক দফা সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত হন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরী।

জানা গেছে, আলিফ দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে একজন। তার বাবা অসুস্থ এবং মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন। তিনি হবিগঞ্জের একটি স্থানীয় স্কুল অ্যান্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

এসএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর