সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

জামায়াত এমপির নতুন ভিডিও ভাইরাল, বিয়ের তথ্যে অসঙ্গতি নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

জামায়াত এমপির নতুন ভিডিও ভাইরাল, বিয়ের তথ্যে অসঙ্গতি নিয়ে বিতর্ক
গাজী নজরুল ইসলামের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। তার নতুন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি তার দাবিকৃত দ্বিতীয় বিয়ে নিয়েও নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের তারিখের সঙ্গে একটি বায়োডাটায় উল্লিখিত বৈবাহিক অবস্থার অসঙ্গতি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ২০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে একটি টেবিলের ওপর রাখা পরিচয়পত্রে ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ এবং ‘১৩তম পার্লামেন্ট’ লেখা দেখা যায়। পরিচয়পত্রে গাজী নজরুল ইসলামের ছবি, নাম এবং সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয়ও দৃশ্যমান।

ভিডিওতে হট্টগোলের মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘দেখেন, সাতক্ষীরার জামায়াতের লোক মেয়েসহ এখানে ধরা খাইছে। এই যে, এই মুরুব্বি।’

তবে ভিডিওটি কবে, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

এর আগে সোমবার রাত থেকে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

প্রথম দিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নেতারা ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স’ ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে এটিকে এআই-নির্মিত নয় বলে দাবি করে।

আরও পড়ুন

এমপি নজরুলের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন সেই তরুণী ও তার বাবা

পরবর্তী সময়ে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। একই দাবি করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নেতারাও।

লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাছুম বিল্লাহকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে শ্বশুরের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন।

তার অভিযোগ, তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয় এবং পরে আরও কয়েক লাখ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দেওয়ায় ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাকে তিনি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চরিত্রহননের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।

Jamat2
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি বায়োডাটা, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ১৭ জুন মরিয়ম খাতুনকে তিনি বিয়ে করেন। কিন্তু গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি বায়োডাটায় দেখা যায়, ২২ জুন তারিখে—অর্থাৎ দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পরও—মরিয়ম খাতুনের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ রয়েছে।

ওই বায়োডাটায় গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরও রয়েছে। স্বাক্ষরের ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে- ‘জোর সুপারিশ করছি’। এ কারণে বিয়ের সময়কাল ও নথিপত্রের তথ্য নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি কাবিননামার কপিতে দেখা যায়, তিন লাখ টাকা দেনমোহরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে মো. আবুল হোসেন এবং বেগম মাকসুদা ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

ভাইরাল ভিডিওর নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জামায়াত এমপির

ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার স্বামীর পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে এবং তিনি নিজেও বিষয়টি জানতেন। এ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে মরিয়ম খাতুনও পৃথক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার বৈধ স্বামী। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে তিনি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।

মরিয়মের বাবা মাছুম বিল্লাহও দাবি করেন, গত ১৭ জুন দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং অনুষ্ঠানে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।

এমপির দাবি, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে এবং ভিডিও ফাঁসের পেছনে রয়েছে পারিবারিক বিরোধ ও চাঁদাবাজির চক্র। অন্যদিকে নতুন ভিডিও প্রকাশ, বিয়ের তারিখ, বায়োডাটায় ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ এবং বিভিন্ন নথি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর