সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ভাইরাল ভিডিওর নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জামায়াত এমপির

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

সাতক্ষীরায় জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল: ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই মুখ খুলেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ভিডিওতে দেখা তরুণীকে নিজের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করে তিনি বলেছেন, এটি স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও।

নজরুল ইসলামের দাবি, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। তাদের বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব দাবি করেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।

গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে নজরুল ইসলামের একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে গাজী নজরুল ইসলামকে ওই তরুণীর সঙ্গে কথোপকথন ও ঘনিষ্ঠ অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

ভিডিও প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’ একাধিক পোস্টে দাবি করে, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি একটি ভুয়া প্রচারণা। পরে দলটির অনেক নেতাকর্মী ভিডিওর ওই তরুণীকে নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করা হয়।

জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণী গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।

jamat
তরুণীর সঙ্গে জামায়াতের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে।

আজিজুর রহমান বলেন, এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি।

এরপর এমপি নজরুল ইসলাম ভিডিওর ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।

সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখে আমার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি। উক্ত অফিসে অবস্থানকালে জোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লক্ষ টাকা আদায় করে। আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়।

‘টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

নজরুল ইসলাম আরো লিখেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, গত ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।

যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর