সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

এমপি নজরুলের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন সেই তরুণী ও তার বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

এমপি নজরুলের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন সেই তরুণী ও তার বাবা

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ভিডিওতে থাকা তরুণী ও তার বাবা। তারা দুজনই দাবি করেছেন, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়ম খাতুনের বৈধভাবে বিয়ে হয়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি কীভাবে ধারণ ও ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়েও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তারা।

অনলাইন ও বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। ডিসেন্ট জানায়, ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণীর নাম মরিয়ম খাতুন।

মেয়ের বাবা মাসুম বিল্লাহ জানান, ‘৩ লক্ষ টাকা দেনমোহরে গত ১৭ জুন আমার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় গাজী নজরুল ইসলামের। ওই দিন উনারা আমার অফিসে (মগবাজার) এলে রেস্ট নিচ্ছিলেন ওখানেই। সেখান থেকে ভিডিওটি ধারণ হয়। এর সঙ্গে আমার শ্যালক ওবায়দুল্লাহ জড়িত। সে আমার অফিসে সহকারী হিসেবে কাজ করতো।’

ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণী মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘উনি আমার স্বামী। আমাদের বিয়ে হয়েছে। ওইদিন ঘুরতে গিয়ে আমরা আমার বাবার অফিসে রেস্ট নিচ্ছিলাম।’

মরিয়ম খাতুন এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে বলে জানান।

দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, তারা মরিয়ম খাতুনের একটি বায়োডাটা সংগ্রহ করেছে, যেটিতে গাজী নজরুল ইসলাম এমপি কর্তৃক গত ২২ জুন তারিখে সাক্ষর করা সুপারিশ রয়েছে।

বায়োডাটাটিতে এমপির স্বাক্ষরের ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে, ‘জোর সুপারিশ করছি’। বায়োডাটাটিতে মরিয়ম খাতুনের বৈবাবিহক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে।

গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে গাজী নজরুল ইসলামকে ওই তরুণীর সঙ্গে কথোপকথন ও ঘনিষ্ঠ অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

ভিডিও প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’ একাধিক পোস্টে দাবি করে, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি একটি ভুয়া প্রচারণা। পরে দলটির অনেক নেতাকর্মী ভিডিওর ওই তরুণীকে নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করা হয়।

জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণী গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে। এরপর এমপি নজরুল ইসলাম ভিডিওর ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।

সেখানে সাতক্ষীরার এই সংসদ সদস্য লিখেছেন, ‘গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখে আমার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি। উক্ত অফিসে অবস্থানকালে জোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লক্ষ টাকা আদায় করে। আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়।

‘টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

নজরুল ইসলাম আরো লিখেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, গত ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।

যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর