সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি করার অধিকার কারও নেই: চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

Charmonai Pirr
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। ছবি: ঢাকা মেইল

বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ছলচাতুরি করার অধিকার কাউকে দেয়নি দেশের জনগণ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

সোমবার (৮ জুন) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের আগামী অর্থবছরের বাজেট: আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ছলচাতুরি, টালবাহানা, অপচয় ও অযৌক্তিক ব্যয় করার অধিকার কাউকে দেয়নি দেশের জনগণ। দেশে প্রায় এক কোটি নিবন্ধিত করদাতা থাকলেও বাস্তবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব মানুষই কর প্রদান করেন। দৈনন্দিন ক্রয়-বিক্রয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবা গ্রহণের মাধ্যমে একজন দরিদ্র মানুষও রাষ্ট্রীয় রাজস্বে অবদান রাখেন। তাই জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘সরকার প্রতি বছর বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদন করলেও এর বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত নজরদারি, আমানতদারি ও জবাবদিহিতার ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে জনগণের করের অর্থের একটি বড় অংশ অপচয় হয় এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ ধারা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেট কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়; এটি জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। জনগণের করের অর্থে বাজেট বাস্তবায়িত হয়, আবার ঋণের বোঝাও শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই বর্তায়। কিন্তু বাজেটের ঘোষিত সুবিধাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছায়, সে বিষয়টি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়। তাই বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য ব্যক্তি পরিবর্তনের পাশাপাশি নীতিগত পরিবর্তনও জরুরি।’


বিজ্ঞাপন


দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে শরিয়াহভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন বলেন, 'কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ, বিশিষ্ট সাংবাদিক সোহরাব হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ, ক্যাবের কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার এম এ এম গোলাম কিবরিয়া, ইসলামিক চেম্বার অব কমার্সের সদস্যসচিব মাওলানা মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসের, নিজাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন এবং জয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান শামীম।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ, সহ-প্রচার সম্পাদক কে এম শরীয়াতুল্লাহ এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন নুর উপস্থিত ছিলেন।

এম/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর