মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

স্ত্রীর মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে বিতর্ক: যা বললেন সাংবাদিক জিল্লুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

Jillu
সাংবাদিক জিল্লুর রহমান ও তার স্ত্রী ফাহমিদা হক। ছবি- সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাংবাদিক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ফাহমিদা হক। এ নিয়ে অল্পবিস্তর আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তারই মাঝে বিষয়টি মুখ খুললেন জিল্লুর রহমান।

টকশো ‘তৃতীয় মাত্রা’র উপস্থাপক ও পরিচালক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া এই সাংবাদিক দাবি করেছেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া ফাহমিদা হকের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও জনসম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতারই একটি নতুন অধ্যায়।’


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এই প্রতিক্রিয়া জা‌নি‌য়ে‌ছেন তিনি।

জিল্লুর রহমান ব‌লেন, ‘আমার স্ত্রী ফাহমিদা হক বিএনপি থেকে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনিত হওয়ায় অনেক বন্ধু, সহকর্মী এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা আমার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছেন। সে কারণেই সংক্ষেপে আমার কিছু কথা জানানো প্রয়োজন মনে করছি।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘ফাহমিদার জনসম্পৃক্ততা আজকের বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই সে লেখালেখি, সামাজিক উদ্যোগ এবং নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত আছে। সে দেশজুড়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, নানা সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে এবং তার লেখার মাধ্যমে জনপরিসরের আলোচনায় অংশ নিয়েছে। এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তার রাজনীতি ও জনজীবনের প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে।’


বিজ্ঞাপন


জিল্লুর রহমান ব‌লেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে ফাহমিদার এই মনোনয়ন তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও জনসম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতারই একটি নতুন অধ্যায়। আমি আশা করি, সে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করবে এবং বাংলাদেশের সংসদীয় কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক আলোচনায় ইতিবাচক অবদান রাখবে।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘একইসঙ্গে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার পেশাগত জীবন একজন সাংবাদিক, কলামিস্ট, টকশো উপস্থাপক এবং একটি নীতি-গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে — দীর্ঘ কয়েক দশকের স্বাধীন পেশাগত কাজের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। সেই পেশাগত দায়িত্ব ও অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।’

জিল্লুর ব‌লেন, ‘গণতন্ত্রে একই পরিবারের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন জনভূমিকা পালন করতে পারেন। কিন্তু পেশাগত সততা সব সময় স্বাধীন থাকতে হবে। বস্তুনিষ্ঠতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং উন্মুক্ত জনআলোচনার প্রতি প্রতিশ্রুতিই আমার কাজকে পরিচালিত করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’

স্ত্রীর সাফল্য কামনা ক‌রে তি‌নি আরও ব‌লেন, ‘ফাহমিদার নতুন দায়িত্ব পালনে আমি তার সাফল্য কামনা করি। আমার ক্ষেত্রে, সাংবাদিকতা ও নীতি-আলোচনার ক্ষেত্রে যে স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এতদিন কাজ করেছি, সেই একই নীতিতে আমি কাজ চালিয়ে যাব।’

এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। 

বিএনপি ঘোষিত সেই তালিকার একজন ফাহমিদা হক। এ ঘটনা ছোটখাটো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। খোদ বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর দাবি, ফাহমিদা হক দলের সক্রিয় রাজনীতি করতেন না। সাংবাদিক জিল্লুরের স্ত্রী হিসেবেই তাকে সবাই চিনতেন।

তবে এই বিতর্ক নিয়ে ফাহমিদা হক বলেন, ‘আমার বাড়ি নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় হলেও আমরা ঢাকায় বড় হয়েছি। আমার স্বামী সাংবাদিক জিল্লুর রহমান। তবে আমি তার পরিচয় দিইনি। আমার বাবা জহিরুল হক। উনার নাম দিয়েছি সিভিতে।’

জানা গেছে, সাংবাদিক জিল্লুর রহমান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক। তার স্ত্রী ফাহমিদা হক একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য। 

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও ফাহমিদা হক সম্পৃক্ত। তিনি দলটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদে রয়েছেন। সেই হিসেবেই তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর