ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি তাদের ৩৬ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা ঘোষণা করেন। তবে এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক ও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন গোপালগঞ্জের সুবর্ণা ঠাকুর।
আওয়ামী লীগের একটি ইউনিটের বর্তমান পদে থেকেও বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়।
বিজ্ঞাপন
যদিও সুবর্ণা ঠাকুরের দাবি, তাকে না জানিয়ে আওয়ামী লীগে পদ দেওয়া হয়েছে। তিনি পদত্যাগও করেছেন। কোনোদিন কোনো মিছিল মিটিংয়ে যাননি আওয়ামী লীগের পক্ষে।
অবশ্য কবে পদত্যাগ করেছেন তা জানাতে পারেননি বিএনপির টিকিটে এমপি হতে যাওয়া এই শিক্ষক।
জানা গেছে, সুবর্ণা ঠাকুর বর্তমানে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় একজন শিক্ষক।
বিজ্ঞাপন
তবে আওয়ামী লীগের পদধারী হয়েও বিএনপির প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তার ব্যাখ্যা ভিন্ন। ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে তাকে যে পদ দেওয়া হয়েছে, তা তাকে না জানিয়েই দেওয়া হয়েছে। তিনি কোনোদিন দলটির কোনো মিছিল বা মিটিংয়ে অংশ নেননি।’

উল্টো নিজেকে বিএনপির লোক পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৯২ সাল থেকেই তার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তারা নিয়মিত শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন। একসময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও দেখা করেছেন। মাতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করেছেন।’
বিএনপির মনোনয়ন কেনার আগেই কি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন?
এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ করেছি। তবে কবে করলাম সেটার তারিখ এখন মনে নেই।’
আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেত্রী হিসেবে পরিচিত সুবর্ণা ঠাকুরের নাম বিএনপির চূড়ান্ত তালিকায় আসায় দলের ভেতরে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, তারা এই সিদ্ধান্তকে ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মতে, দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের মূল্যায়ন না করে এভাবে অন্য দলের পদধারী নেত্রীকে সরাসরি মনোনয়ন দেওয়া দলের আদর্শিক অবস্থানের পরিপন্থী। তারা একে ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবেও দেখছেন।
এদিকে বিএনপির কোনো পদে না থেকেও হঠাৎ সংসদ সদস্য হতে যাওয়া সুবর্ণা ঠাকুর নিজেকে একজন যোগ্য প্রার্থী মনে করেন।
তিনি বলেন, ঠাকুর পরিবারের সদস্য হিসেবে এবং শিক্ষক হিসেবে মানুষের পাশে থাকার কারণেই তিনি এই পর্যায়ে এসেছেন। বিএনপির হাইকমান্ড তাকে বেছে নেওয়ার পেছনে তার জনসম্পৃক্ততা সুবিধা করেছে বলে মনে করেন।
আরও পড়ুন: সংসদে ‘চমক’ দেখানোর সুযোগ পেলেন না চমক
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান একাধিকবার ফোন করলেও কথা সম্ভব হয়নি।
আর কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা মোল্লাকে ফোন করলে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার পদ আছে। বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। পদত্যাগ করেছেন কী করেননি সেটা তিনি বলতে পারবেন।’
ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও মাদারীপুর-২ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য আক্ষেপ জানিয়ে লিখেছেন, কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদিকা শ্রীমতী সুবর্ণা ঠাকুরকে বিএনপি’র সংরক্ষিত নারী এমপি মনোনীত করায় মনোনয়ন বোর্ডের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। অভিনন্দন শ্রীমতি সুবর্ণা ঠাকুর।’
বিইউ/এমআই




