ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনরি মনোনয়ন পাননি দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সাবেক সদস্য রুমিন ফারহানা। একটু দেরিতে হলেও সেই ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। ধন্যবাদ জানালেন বিএনপিকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ভাষায়, ‘বিএনপিকে ধন্যবাদ জানাই নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য। আমাকে মনোনয়ন দিলে আমার এত জনপ্রিয়তা, তা হয়তো আমি জানতাম না।’
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অনেক নারী ছিল সামনের সারিতে। কিন্তু তারা এখন হারিয়ে গেছে। এ সংসদে নারী মাত্র সাতজন। ৫২ শতাংশ নারীদের পেছনে ফেলে দেশকে সামনে দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।’
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে নানা কারণে সমালোচিত হয়েছেন রুমিন ফারহানা। কখনো তার মুখে শোনা গেছে শেখ মুজিবের প্রশংসা, কখনো আবার ধানমণ্ডি ৩২ ভাঙার কারণে ক্ষোভ ঝাড়তেও শোনা গেছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়াও নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে তাকে হেনস্তা করার অভিযোগ তোলেন বিএনপির সাবেক এই নেত্রী ও সংসদ সদস্য। এত সমালোচনার কারণে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, বিএনপিকে থেকে মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন তিনি।
অবশেষে সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়। বিএনপির নমিনেশন পাননি রুমিন ফারহানা। তার বদলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে, তার প্রতীক ছিল খেজুর গাছ।
অন্যদিকে রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে জয়ীও হন তিনি। মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে তিনি হারান ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোটের ব্যবধানে।
ফলে জাতীয় সংসদে এখন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আগে যেখানে সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপির পক্ষে আওয়াজ তুলতেন তিনি, সেখানে এখন তার মুখে শোনা যাচ্ছে দলটির মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাজের নানা সমালোচনা।
এএইচ

