শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

শেরপুর-১ আসনের ফল নিয়ে আপত্তি, আদালতে যাওয়ার ঘোষণা ডা. প্রিয়াঙ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

BNP candidate Sansila Zebrin Priyanka
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা

শেরপুর-১ (সদর) আসনে নির্বাচনের ফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি পুনঃনির্বাচনের দাবিও জানান।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রাশেদুল ইসলামের কাছে অর্ধলক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ভোটে নানা অনিয়মের অভিযোগ ও ফল নিয়ে আপত্তির কথা ইতোমধ্যে তিনি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন। এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতে যাবেন।

‘অবশ্যই আমি আদালতে যাব। আমি ইসির কাছে ফলাফল স্থগিতের জন্য আবেদন করেছি এবং পুনঃনির্বাচনের দাবির জন্য আবেদন করেছি’, যোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের শিটে প্রিসাইডিং অফিসারের সই-সিল না থাকা, অনেক ক্ষেত্রে পোলিং এজেন্টদের নাম, সই ও এনআইডি নম্বর না থাকার কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করেন ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থীর।


বিজ্ঞাপন


তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে কোনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে দলীয় কর্মীরাই প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসার নিজেই পোলিং এজেন্টদের নাম ও সই দিয়েছেন।

প্রিয়াঙ্কার প্রশ্ন, ‘প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টের নাম, এনআইডি নম্বর ও স্বাক্ষর বিহীন ভোট গণনা বিবরণীপত্র কীভাবে শেরপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার গ্রহণ করলেন?’

নির্বাচনের পরদিন থেকে কয়েকজন পোলিং এজেন্ট অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করলে হামলার শিকার হন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‘এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, এতে আমার নিবার্চনের অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করতে ভয় পেয়ে মুখ খুলছেন না’, যোগ করেন প্রিয়াঙ্কা।

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগগুলোর বারবার ডিসি অফিসে জানানোর পরও জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার যথাযথ প্রতিকারের ব্যবস্থা নেননি। জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াত শিবির সমর্থিত সক্রিয় রাজনীতি করতেন, এসিল্যান্ড অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জামায়াত ও স্বত্রস্ত্র প্রার্থীর কাজ করেছেন।’

প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘যে এলাকায় বিএনপির ভোটার বেশি, সেসব এলাকার কেন্দ্রে ভোটারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে ধীর গতিতে ভোট কাস্ট করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘হট্টগোল করে ধানের শীষের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। জামায়াত সমর্থিত এলাকায় ইচ্ছামত জাল ভোট দেওয়া হয়েছে।

‘বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দল হওয়া স্বত্ত্বেও আমি একটি কেন্দ্রে ৭টি ভোট, আরেকটি কেন্দ্রে ২৭টি ভোট, ৩৯টি ভোট, ৪৯টি ভোট, ৯৬টি ভোট পাই, যা কোনোভাবে বিশ্বাসযোগ্য নয়।’

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার দল জানে কি না কিংবা বিএনপি থেকে কী বলা হয়েছে? এমন প্রশ্নে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আসলে নির্বাচনের সময় সবাই অনেক ব্যস্ত থাকে। সব আসনেই যে যার যার মতো ব্যস্ত ছিল, দল সবকিছুতে অবগত আছে। আমার দল অবশ্যই এ ব্যাপারে পরে ব্যবস্থা নেবে।’

এম/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর