জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণকে ঘিরে দিনভর নানা আলোচনার জন্ম দেন ঢাকা–৬ আসনের বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। নিজ দলের নির্ধারিত সময়ে শপথে অংশ নিতে না পেরে তিনি পরে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের সঙ্গে শপথবাক্য পাঠ করেন। এ ঘটনাকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় কৌতূহল ও রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির সদস্যরা বেলা পৌনে ১১টায় স্পিকারের কক্ষে শপথ নেন। দলীয় সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে না পারায় ওই ধাপের শপথে অংশ নিতে পারেননি ইশরাক হোসেন।
বিজ্ঞাপন
পরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা শপথ নিতে এলে তাদের সঙ্গে একই পর্বে শপথবাক্য পাঠ করেন ইশরাক। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক আলোচনা শুরু হয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ছিল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ, তবুও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় আসে। শুরুতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে অনীহা দেখালেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই তারা আলাদাভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেন।
তবে ওই পর্যায়ে উপস্থিত থাকলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে অংশ নেননি ইশরাক হোসেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ শেষ করেই তিনি শপথস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ফলে পরিষদ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় তার অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সময়মতো শপথে উপস্থিত না হওয়া এবং পরে ভিন্ন দলের সদস্যদের সঙ্গে শপথ নেওয়ার ঘটনা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ব্যাখ্যার জন্ম দিতে পারে। যদিও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের বাইরে শপথ নেওয়ার সুযোগ সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধিতে রয়েছে। ফলে প্রক্রিয়াগত দিক থেকে এতে কোনো জটিলতা নেই।
এদিকে বিএনপি ও জামায়াতের সংসদীয় কার্যক্রমে সম্ভাব্য সমন্বয় কিংবা কৌশলগত অবস্থান নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দুই দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এএইচ/জেবি

