চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের কোনো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী না করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নিবে।
অনুষ্ঠানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘যারা এই নির্বাচনটা করেছেন আল্লাহর দোহায় লাগে অনেক চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, দুর্নীতিবাজকে আপনারা সংসদে ঢুকিয়েছেন, এদেরকে কোন মন্ত্রণালয় দিবেন না।’
অল্প ভোটে বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরে যাওয়া এনসিপির এই প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে টোটালি একটা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। যে সেটআপটা অনেক আগেই করা হয়েছিল, কে কত আসন পাবে, কিভাবে পাবে?’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হচ্ছে এটা করপোরেট সিস্টেমে একটা ইলেকশন। অর্থাৎ আপনার কাছে হাজার কোটি টাকা থাকবে, আপনি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, দুর্নীতি করবেন, টাকা কামাবেন পাঁচ বছর, মানুষের উপর অত্যাচার করবেন, তারপর সবার সামনে আল্লামা হিসেবে উপস্থিত হয়ে বলবেন আমাকে ভোট দাও।’
বিজ্ঞাপন
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি বাংলাদেশে চলতে দেওয়া যাবে না।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংহতি জানানোর ফলে কারাবন্দী প্রবাসীদের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে এনসিপি ডায়াস্পোরা এলায়েন্স।
কারামুক্ত প্রবাসীদের উদ্দেশে পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই বিশেষত আমাদের কয়েকটি আসন যেটাতে আমরা পাস করেছি, সেখানে প্রবাসীরা অভূতপূর্বভাবে শাপলা কলি এবং ১১ দলীয় জোটকে ভোট দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের কোন কিছু দিয়েই এই ঋণ বাংলাদেশে শোধ করতে পারবো না।’
এনসিপি মূখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন বিপথে যাচ্ছিল, প্রবাসীরা বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে এগিয়ে এসেছিল। তারা বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন কিনা আশা ছিল না, কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো, কাউকে আজীবন জেলে রাখা হতো।’
তিনি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশে ফেরত এসেছে মানে কি? নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে। আপনারা ভোট দিয়ে নতুনভাবে বাংলাদেশকে জাগিয়ে তুলেছেন।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘যখন আন্দোলন হচ্ছিল আপনারা রেমিটেন্স বন্ধ করে দিয়ে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন। গণভোটের পক্ষে হা ক্যাম্পেইন করেছিলেন এবং সব প্রবাসী গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিয়েছেন, নির্বিচারে বাংলাদেশ গঠনের জন্য।’
এসএইচ/এএম

