আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে বিএনপি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সংস্কারের পক্ষে, এ জন্য গণভোটে আমরা ‘হ্যা’-এর পক্ষে ভোট দেব।’
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে তিনি এ কথা জানান।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘কিছু প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সমস্যা। নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তিনি নির্বাচনের যোগ্য হবেন।’
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত সরকারের অত্যাচারের কারণে অনেকে দ্বৈত নাগরিকত্ব নেন। এখন তাদের প্রার্থিতা বাতিল করলে অন্যায় হবে। পোস্টাল ব্যালটে বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরা ভোটার হয়েছে। তাদের কাছে পাঠানো ব্যালট পেপারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক আগে দেওয়া হয়েছে। ইসি মনে হয় বিষয়টা খেয়াল করেনি।’
তিনি বলেন, ‘বিশেষ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম আগে চলে এসেছে। অ্যালফাবেট অনুসারে সাজানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে হয় ইচ্ছে করেই এমনটা করেছেন। এই পোস্টাল ব্যালট যেন দেশে ব্যবহার করা না হয়। বাহরাইনে একটি বিশেষ দল অনেকগুলো ব্যালট পেপারের বিষয়টি সামলাচ্ছে। ইসি বলেছে তারা বাহরাইনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করেছে।’
বিজ্ঞাপন
বিএনপি নেতা বলেন, ‘কিছু রিটার্নিং অফিসার প্রার্থিতা অবৈধ করেছেন। প্রার্থিতা বাতিলও হচ্ছে। কিন্তু আইন সবার জন্য সমান করা উচিত। জামায়াতে ইসলামীর দুজন একই কারণে বাতিল হয়েছেন। আমরা মনে করি তাদেরও রিভিউ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। আমরা অনুরোধ করেছি, এ নিয়ে যেন জটিলতা সৃষ্টি করা না হয়।’
তিনি বলেন, ‘ভোটে কারচুপির চেষ্টা হলে এনআইডি ব্লক করা হবে বলা হয়েছিল। আমরা বলব, যারা এসবে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘যথাসময়ে নির্বাচনের জন্য দলের চেয়ারম্যানের উত্তরবঙ্গ সফর বাতিল করেছেন। পরিষ্কার বলা হয়েছিল এটি কোনো রাজনৈতিক সফর হবে না। তবে ইসি অনুরোধ করেছিল সফর স্থগিত রাখতে। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ঠিক রাখতে চেষ্টা করছি। চেয়ারম্যান বেরোলে রাস্তায় হাজার লোক হবে। সেটা তো দলের দোষ না। আমরা তাকে কোনো অনুষ্ঠানে যেতে মানা করেছি। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল ক্রমাগত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে ইসির ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো খবর আমরা পাচ্ছি না। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিএনপি প্রার্থীদের কারণ দর্শাতে বলা হয়। অথচ ঢাকাসহ বেশকিছু বড় এলাকায় অন্য দল আচরণবিধি ভঙ্গ করলেও ইসিকে বেখবর মনে হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ভোটের এক মাস আগে গণভোটের ব্যালট গেল মাঠে
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসপি নিয়োগ/বদলি হয়েছে লটারির মাধ্যমে। সেখানে তো বিএনপির হাত ছিল না। এ নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলে তা হবে রাজনৈতিক কৌশল।’
এসময় নজরুল ইসলাম খান আরও জানান, ‘আমরা (বিএনপি) শুধু ফ্যামেলি কার্ড নয়, কৃষকদের ফারমার্স কার্ডও দেব।’
এদিন নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপির পাঁচ সদস্যেল প্রতিনিধি দল সিইসি নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এমএইচএইচ/এএইচ

