শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

‘বিড়িতে সুখটান দিয়েও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

faizul
জামায়াত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক। ছবি: সংগৃহীত

ড. ফয়জুল হক। কথিত বিএনপি নেতা সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীতে। দলে যোগ দিয়েই ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে তিনি এবার আলোচনায় এসেছেন। তিনি বলেছেন, বিড়িতে সুখটান দিয়েও যদি কেউ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দাওয়াত দেয়, তবে আল্লাহ তাকে মাফ করে দিয়ে ভালো মানুষ বানিয়ে দিতে পারেন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ঝালকাঠির রাজাপুরে এক নির্বাচনি উঠান বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হক বলেন, ‘আপনারা দৈনিক বিড়ি খান না, ৫/১০টা বিড়ি যে দোকান থেকে খাবেন, ওই দোকানে গিয়ে বিড়ি অডার দেবেন আর লগলগে বিড়ি দরিয়ে একটা সুখটান মাইররা বলবেন- কী খবরডা কী ক'দেহি। কারবারডা কী দেশের অবস্থা দেখছো, দাঁড়িপাল্লা ছাড়া এদেশে তো আর মানুষ দেখি না। শোনেন, আমি তো গল্পের ছলে বলি তাই বলার কারণে আপনাদের আনন্দ লাগতেছে।’

পুরুষদের জন্য পরামর্শ দিয়ে ফয়জুল হক বলেন, ‘আপনারা চা খান দোকানে গিয়ে? কার টাকার চা খান? কয় টাকার চা খান? এখন থেকে ৫ টাকার চা খাবেন ১৫ টাকার গপ্পো মারবেন। নিজে ৫ টাকার চা অডার দিয়ে শুরু করবেন- এ আবু তালেব খবর কী, শোনলাম কী সব জায়গায় ড. ফয়জুলের দাঁড়িপাল্লার জয়জয়কার অবস্থা, কারবারডা কী। ঘটনা না কি ঘটলেডা কী। এদেশে এ আল্লেহ না কোনদিন। এটা বলার পরে আশেপাশে আরো ৫/১০ জন থাকবে না? এই পেনাই আপনার বড় ধরনের খেদমত যেটা আপনার ১০০ টাকা খরচ করে করা লাগবে না।’

আরও পড়ুন

সেই ফয়জুল এখন জামায়াতের এমপি প্রার্থী!

তিনি বিএনপি নেতা হলেন কবে, প্রশ্ন ঝালকাঠির নেতাদের

নারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক গপ্পো মারছেন, প্রত্যেক দিন বিকেলে উঠানে যাইয়া গপ্পো মারা, এরপর চুলের বিনি বাধা একজন আরেক জনের মাথা আচরাইয়া দেওয়া। কিন্তু আজকে থেকে একটা মাথাও আর ফ্রি আচরাইবেন না। যাইবেন ভাবির মাথায় চিরুনি রেখেই পেনাপোডা শুরু করবেন দাঁড়িপাল্লার। এতদিন তোমার কথা শুনছি, মাথার উঁকুন এনে দিছি, আজকে থেকে তোমার কাছে আসলে তুমি আমার কথা শোনবা। তোমারে শোনাবো তোমাকেও বলবো তুমিও আরেকজনকে বলবা। আগামী নির্বাচনে অন্তত একবারের জন্য কায়েদ সাহেব হুজুরের নাতি ড. ফয়জুল হকরে রাজাপুর কাঁঠালিয়ায় দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দেবা। এরপর কমপক্ষে মা বোন আত্মীয় স্বজন ২০ জন মহিলাকে ফোন দিয়ে ভোট দেওয়ার কথা বলবেন।’


বিজ্ঞাপন


নির্বাচনের দিন সম্পর্কে ফয়জুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের রাতে ঘুমাবেন না। ফেব্রুয়ারি মাসের ১১ তারিখ রাত ১২টা পর্যন্ত ঘুমাবেন। এরপর রাতের বেলা বাসার মধ্যে ভালো খাবার রান্না করে স্বামীকে আদর যত্ন করে তুলে আপনিসহ আপনার আত্মীয়-স্বজন সবাইকে নিয়ে সবার আগে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে এরপর ভোট গুনে তারপর বাড়ি এসে বিজয় মিছিল করে ঘুমাবেন।’

প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে টকশোর আলোচিত মুখ ড. ফয়জুল হক গত জুলাইয়ে নিজেকে বিএনপির মালয়েশিয়া কমিটির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক দাবি করে সেখান থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা দেখা যায়। তবে এক পর্যায়ে যোগ দেন জামায়াতে ইসলামীতে।

জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর