গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, রিমান্ডের মধ্যেও প্রিজন ভ্যান থেকে বলেছিলাম ৯০ শতাংশ সরকার পতন হয়ে গেছে, ১০ শতাংশ ধাক্কা দেন; পতন হয়েছে কথার সাথে মিলছে। আজকে এই মঞ্চ থেকে আরেকটি ভবিষ্যবাণী করে গেলাম আগামীর সরকার হবে তরুণদের নেতৃত্বের সরকার।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ’২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণ এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নীলফামারীর জলঢাকা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, আমরা ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে এই শেখ হাসিনাকে নতি স্বীকারে বাধ্য করেছিলাম, ছাত্রদের দাবির কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ হয় ৯ মাস আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলন করি সাড়ে আট মাস। দাবি আদায় না হাওয়া পর্যন্ত হামলা-মামলার হুমকিতেও মাঠ ছাড়িনি। এই ধারাবাহিক আন্দোলনই তরুণদের প্রেরণা জুগিয়েছে। তরুণরা মনে সাহস পেয়েছে। সেই কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে গঠন করা হয় এই গণঅধিকার পরিষদ। গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব পর্যায়ে অনেকে আছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যদি খুঁজেন তাদের অনেকের রাজনৈতিক হাতেখড়ি হচ্ছে এই গণঅধিকার পরিষদ থেকে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম ২০২৪ হবে শেখ হাসিনার পতনের বছর এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্বে পতন হবে এবং হয়েছে।
ভিপি নুর বলেন, গণঅধিকার পরিষদ কোন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কিংবা কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় তৈরি হয়নি। প্রতিকূল সময়ে রাজপথে ধারাবাহিক লড়াই সংগ্রাম ও তরুণদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে এই দল তৈরি হয়েছে। গণ অধিকার পরিষদ চাইলে জাতীয় পার্টির চেয়ে ভালো সুযোগ সুবিধা নিয়ে রাজনীতি করতে পারতো। বিগত ১৬ বছরে অনেক দল অনেক আন্দোলন করেছে কিন্তু কেউই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে পরেনি। শেখ হাসিনা প্রশাসনকে রক্ষীবাহিনী করে ঠিকই ক্ষমতায় ছিল।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, এখন সময় মানুষকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলা। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হলো অতীতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে বা রাজনীতি করেছে, এমপি ছিল, মন্ত্রী ছিল আমার চেয়ে দ্বিগুণ বয়সের মানুষ আছেন আপনারা সব কিছু দেখেছেন; কেউই ভালো নয়। প্রবাদে আছে যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। যেই ক্ষমতা পায় সেই ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করে। আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করে। তাই আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশে আগামীতে এমন নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা যারা সরকার গঠন করবে নির্বাচনে তারা যাতে কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করতে না পারে। সাধারণ মানুষের ভোট প্রদানে তারা যাতে কোনোভাবে বাধা প্রদান করতে না পারে। সাধারণ মানুষের যাকে ভালো লাগে তাকেই ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবে সেই ধরনের ভোট/নির্বাচন ব্যবস্থা আমরা দেখতে চাই।
অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল সেটাতে ধাক্কা খেয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম অর্ন্তবর্তীকালীন সরাকারের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পরে একটি সর্ব দলীয় সরকার হবে। যেখানে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বে অংশগ্রহণকারী দলসমূহের প্রতিনিধি থাকবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ইউনূস স্যার কোনো রাজনীতিবিদকে রাখেননি; এর কারণ অবশ্য কোনো কোনো দল জাতীয় সরকার গঠনে আপত্তি তুলেছিল। তারা বলেছিল যে, জাতীয় সরকারের দরকার নেই, আপনারা কয়েক মাস থেকেই, দ্রুত নির্বাচন দিয়ে দিন। কারণ তারা মনে করেছিল নির্বাচন দিলেই আমরা ক্ষমতায় আসছি; তাহলে ক্ষমতার ভাগ আর অন্য কাউকে দেওয়ার দরকার কী।
তিনি দেশের সংকট নিয়ে আরও বলেন, দেশের সংকট মোকাবিলায় এই দেশের জন্য জাতির জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য প্রয়োজন ছিল জাতীয় সরকার। জাতীয় সরকার মানেই আন্দোলনকারী দলগুলোসহ সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠন করা। তাহলেই আজকের দেশের যে সংকট; এই সংকট তৈরী হতো না। আপনারা জানেন যে হাসিনা সরকার পতনের পরে আমাদের প্রতিবেশী দুষ্ট রাষ্ট্র আমাদের প্রতি আর বন্ধুসুলভ আচরণ করছে না। তার অসহিষ্ণু আচরণ করছে, সীমান্তে উসকানি দিচ্ছে, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও আমাদের বিজিবির সাথে এলাকাবাসীর সাথে সংঘাত লাগিয়ে দেওয়ার জন্য উসকানি দিচ্ছে।
কেন্দ্রীয় গণঅধিকার পরিষদের সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সোহাগ হোসাইনের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান বক্তা ছিলেন দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসান। গণসমাবেশে উদ্বোধন করেন জলঢাকা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি তাইজুল ইসলাম। জলঢাকা উপজেলা ছাত্র, যুব ও গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত গণসমাবেশে কেন্দ্রীয়, রংপুর মহানগর, জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এফএ