স্বাধীনতার পর দেশে অনেক গণআন্দোলন হয়েছে। বন্দুকের নলের সামনে আগে কাউকে কখনও এমন বুক টান করে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। মানুষ শুনেছে, পড়েছে কিন্তু চোখে দেখিনি। প্রথম দেখল আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়া! হালকা গড়ন, পরনে কালো গোল-গলা টি-শার্ট আর ধূসর ট্রাউজার্স, শুধুই কি কোটা প্রথা রদের জন্য, বরং এই রাষ্ট্রের কিছু কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দুটো হাত আড়াআড়ি করে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। নির্মম বুলেট তাকে বিদ্ধ করল ক্রমাগত তবুও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি। বৈষম্যহীন দেশ-সমাজ উপহার দেওয়ার জন্য ১৯৭১ সালে লাখো প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। স্বাধীনতার সুফল পাওয়ার জন্য বা ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে ২০২৪ সালে আবার অনেকে প্রাণ দিলো।
বাংলাদেশের প্রায় ৯৮/৯৯ ভাগ মানুষ একই জনগোষ্ঠীর অর্থাৎ বাংলার মানুষ বা বাঙালি, আর জাতীয়তায় সবাই বাংলাদেশি। একই রক্ত, একই রকম চেহারা, একই ভাষাসংস্কৃতি, একই উৎপাদন ব্যবস্থা, জীবনপ্রণালী, খাদ্য-খাবার, পোশাক-পরিচ্ছদ, একই আকাশ নিচে একই আবহাওয়ায় বসবাস, সব কিছু একই। তবে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতার মত কিছু নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য এ দেশের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতা একটি দেশের সুষম উন্নয়ন, সুষম বণ্টন, ন্যায়বিচার, মেধার বিকাশ ও জাতীয় ঐক্যের পথে বড় বাধা। দেশের সব এলাকা ও মানুষের জন্য সুষম ও সঠিক বণ্টন বা ন্যায় বিচার না করে ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালীরা নিজেদের স্বার্থে নিজেদের এলাকার জন্য উন্নয়ন বাজেট ও অন্যান্য সরকারি বরাদ্দ নিয়ে যায়। যোগ্যতার পরিবর্তে আত্মীয়-স্বজন বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বা নিজের এলাকার লোকদের গুরুত্বপূর্ণ পদ, চাকরি বা সুবিধা দিয়ে থাকে। অযোগ্য ব্যক্তিরা নিয়োগ পেলে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা কমে যায়। অন্যদিকে সঠিক স্থানে সঠিক সময়ে বরাদ্দ বা উন্নয়ন কর্মসূচি না থাকায় দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। সব থেকে বড় কথা দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিভেদের দেওয়াল সৃষ্টি হয়।
আশা করা হয়েছিল, স্বাধীনতার পর এদেশে কোনো বৈষম্যের ঝামেলা থাকবেনা। কিন্তু দেখা যায়, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে এদেশে বার বার জেঁকে বসে আঞ্চলিকতা, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ, তদবির, ঘুষ, তোষামোদ, সিন্ডিকেট, পক্ষপাতিত্ব আর সুপারিশ। এসবের বিরুদ্ধে সংস্কৃতি ও শক্ত মেকানিজম গড়ে তোলার পরিবর্তে বিভিন্ন সময়ে চর্চা আরও বেশি বেড়ে যায়।
একটা বিষয় লক্ষণীয় যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ী দল বা জোট মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের নাম ঘোষণার পরপর ঐ সব ব্যক্তিদের নির্বাচনি এলাকার নেতা-কর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণের অনেক খবর গণমাধ্যমে দেখা যায়। আবার মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হতে পারেনি বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ পায়নি এমন অনেক ব্যক্তিদের এলাকায় এক ধরনের শোকের ছায়া নেমে আসে, এমন খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। অনেক এলাকায় রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে যে সব এলাকায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্য সে সব এলাকায়ও এক ধরণের শোক দেখা যায়। আর এই সব ঘটনা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়, যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর আনন্দ-উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণ যেমন একটা সাধারণ ব্যাপার আবার অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ না পাওয়ার কারণে অসন্তুষ্ট বা ক্ষোভের সৃষ্টিও সাধারণ ব্যাপার হতে পারে। তবে আমাদের দেশে এই দুই ধরনের আচরণ একটা খারাপ ইঙ্গিত বহন করে যা খুবই দুঃখজনক। আর এই দুই ধরনের আচরণের পেছনে রয়েছে এ দেশের মানুষের অতীত অভিজ্ঞতা। অতীতে দেখা গেছে, যে সব এলাকায় মন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ পদের লোক থাকে, সে সব এলাকায় বেশি উন্নয়ন হয়, সে সব এলাকার লোক বেশি চাকরি-বাকরি ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। অন্যদিকে যে সব এলাকায় মন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ পদের লোক থাকে না, সেই সব এলাকায় তেমন কোনো উন্নয়ন হয় না। কেবল রাষ্ট্রের রুটিন মাফিক কাজ হয়, যে কাজগুলো না করলে নয়।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে এই স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতার শিকড় ইতিহাসের অনেক পুরানো। পরাধীনতা, সার্বিক পরিবেশ আর সিস্টেমের কারণে সুদূর অতীত কাল থেকে এ দেশের মানুষের চাকরি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ আর উন্নয়ন খুব কমই কপালে জুটেছে। সেই সেন, সুলতানি, মোঘল যে আমল বলি না কেন; বাংলার শাসকরা তেমন কেউ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ছিল না। সেই সময়ের শাসক বা রাজাবর্গরা সাথে করেই উজির-নাজির, পাক-পেয়াদা, সৈন্যসামন্ত ও অন্যান্য জনবল নিয়ে আসত। অধিকাংশ চাকরি করে অর্থ উপার্জন করে এ দেশ থেকে চলে যেত। মুসলিম শাসকরা প্রায় ৫০০ বছর বাংলা শাসন করলেও বাংলার স্থানীয় নব্য মুসলিমদের তেমন কোনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সুযোগ-সুবিধা ছিল না। নিভৃত পল্লীর অতি দরিদ্র নব্য মুসলিমরা তেমন কোনো চাকরি বা কর্মসংস্থানের বা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুযোগ তাদের ধর্মের অনুসারী শাসকদের কাছ থেকে পেয়েছে, তার প্রমাণ খুবই কম মেলে। বিশ্বখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতার বিবরণ থেকে জানা যায়, যদি কেউ অতি উৎসাহী হয়ে মুসলিম শাসকদের সাথে দেখা করত তাহলে তাদের রাজদরবার হতে শুধু একটা আলখাল্লা পোশাক ধরিয়ে দেওয়া হতো।
ইংরেজ আমলের প্রথম দিকে চাকরির অবস্থা প্রায় আগের মতো অর্থাৎ সব চাকরি ইংরেজদের ছিল। তবে, পরবর্তী সময়ে কৌশলগত কারণে স্থানীয়দের কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়। তবে এ ক্ষেত্রে ইংরেজরা চরম বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করে। প্রশাসনে নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের তারা অগ্রাধিকার দিত। জমিদারি প্রথার মাধ্যমে স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারগুলো ক্ষমতা ও সুবিধা পেত। এতে এক প্রকার পরিবারভিত্তিক প্রভাব ও আঞ্চলিক বৈষম্যও তৈরি হয়। ইংরেজদের ভূমিকা ও অনগ্রসরতার কারণে মুসলিম চাকরিজীবী খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর ছিল। সামাজিক পরিবেশ আর সিস্টেমের কারণে পাকিস্তান আমলে চাকরি চলে যায় পাকিস্তানিদের বিশেষ করে পাঞ্জাবিদের হাতে।
স্বাধীনতার পর দেখা যায়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, চাকরিপ্রাপ্তি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশেষ জেলা, বিশেষ অঞ্চল, বিশেষ দল, বিশেষ আদর্শ, প্রভাবশালীর এলাকা অনেক বেশি প্রধান্য পায়। অনেক নিয়োগের ক্ষেত্রে এলাকা বা জেলা ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট আসন থাকা থাকলেও তা একেবারে উপেক্ষা করা নতুন কিছু ছিল না। কোন বিশেষ এলাকা থেকে কয়েক গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়ার ইতিহাসও আছে। কোনো নিয়ম-নীতি, সাবজেক্ট, নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতার তোয়াক্কা করা হয় না। এ দেশে এটাও দেখা গেছে, কোন অফিস বা দপ্তরে কোন বিশেষ এলাকা বা আদর্শের লোক থাকলে পুরো অফিসে প্রভাব বিস্তার করে।
এদেশে ‘সাপ-লুডুর নীতি অনুসরণ করে জ্যেষ্ঠদের ডিঙ্গিয়ে ও যোগ্যতা বিবেচনা না সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি দেওয়াও নতুন কিছু নয়। দেখা গেছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের অধিকাংশ থানার ওসি ও ইনস্পেক্টরের বাড়ি একটি বিশেষ এলাকার ও বিশেষ রাজনৈতিক দলের সাবেক কর্মী। এমনও ঘটনা রয়েছে বিভিন্ন সরকারের আমলে মন্ত্রী বা প্রভাবশালীদের আওতাধীন অফিসের সব স্টাফ তার এলাকার ও আত্মীয়-স্বজন।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনে নিয়োগের ক্ষেত্রে হাতে গোনা কয়েকটি জেলার আধিক্য ছিল বেশি। আবার বাদবাকি জেলা গুলো থেকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও আবার মন্ত্রী, স্থানীয় এমপি ও জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশ বাধ্যতামূলক ছিল- এমনও অভিযোগ রয়েছে।
শুধু সরকারি নয় বেসরকারি ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যায়। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপ বাংলাদেশের ব্যাংক খাত থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা অবৈধভাবে ঋণ নিয়ে ছিল। শুধু ঋণ নয়, এস আলম গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ নেয় দেশের কয়েকটি ব্যাংকও। ইসলামী ব্যাংক পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভের পর কয়েক হাজার কর্মকর্তা–কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয় যার প্রায় সবাই এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের নিজ উপজেলার। যাদের অনেকের যোগ্যতা ছিল না এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মনীতি উপেক্ষা করা হয়।
বাংলাদেশে এটাই যেন চিরাচরিত প্রথা, যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো স্বচ্ছ না করে সব জায়গায় নিজেদের লোক বসানোর কাজটি করেছে। লক্ষণীয় যে, সরকারগুলো যে সব কারণে জনপ্রিয়তা হারিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম কারণ দলীয়করণ ও তাদের নিয়োগ দেওয়া লোকদের লাগামহীন অপকর্ম।
সরকারি চাকরি সীমিত, সবাই পাবে এমন হতে পারে না। তবে এমন একটা স্বচ্ছ ও প্রশ্নহীন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থার প্রয়োজন যার ওপর তরুণরা আস্থা স্থাপন করতে পারবে। পড়াশোনা বা যোগ্যতা থাকলে চাকরি হবে, তা না হলে নয়, এমনটাই জাতির জন্য কল্যাণকর। যারা সরকারি চাকরি পায়না তারা অন্য চাকরি বা কাজ করে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কেননা সব কাজের মূল্য ও মর্যাদা আছে।
একজনের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা কোনো দোষের কিছু নাও হতে পারে। কিন্তু তখনই সমস্যা যখন অন্য শত শত প্রার্থীদের বঞ্চিত করে, স্বজনপ্রীতি, আঞ্চলিকতা ও দুর্নীতির মাধ্যমে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরির বাজারে আমাদের দেশে কয়েকটা প্রচলিত শব্দ আছে, যেমন ‘লাইনঘাট’, ‘সিস্টেম’ আর ‘মামু খালুর’। যে কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য এগুলোর সন্ধানে ব্যস্ত থাকে। সবচেয়ে বড় বৈষম্য কোটা প্রথা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে কিছুটা সমাধান হলেও বৈষম্যের অন্যান্য বড় বড় উপাদানগুলো বিদ্যমান থাকায় চাকরির বাজারের বৈষম্য দূর করা নিয়ে অনেকের মনে সংশয় আছে।
স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতার সবচেয়ে খারাপ দিক, যারা এই সুবিধা পায় তারাও আবার তাদের আত্মীয়-স্বজন, অঞ্চল বা আদর্শের লোক নিয়ে হাজির করে। এটা গাণিতিক হারে বাড়তে থাকে এবং এই কারণে দেখা যায় দেশের অনেক এলাকা দিন দিন অনেক পিছিয়ে পড়ে।
পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যাদের জনগণের মধ্যে জাতিগত, ভাষা, বর্ণ, ধর্ম ও অঞ্চলভিত্তিক পার্থক্য থাকলেও সুষম উন্নয়ন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা তাদের জাতীয় ঐক্য সুসংহত করছে। আবার পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যাদের জনগণ একই জনগোষ্ঠী, ভাষা, বর্ণ ও ধর্মের মানুষ থাকা স্বতেও শুধুমাত্র সমান অধিকার ও ন্যায় বিচার না থাকার কারণে গৃহযুদ্ধ বা একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত। পাঞ্জাবীদের সাথে আমাদের ধর্মের মিল ছিল তারপরও আমরা একসাথে থাকতে পারেনি, এবং কারণগুলো সবার জানা। সবাই একই জনগোষ্ঠীর, ভাষা ও জীবনযাত্রার মিল থাকা স্বতেও ১৯৪৭ সালে বাংলাকে একক রাষ্ট্র করা যায়নি।
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বা বৃহত্তর স্বার্থে পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র যখন প্রতিটি অঞ্চল ও প্রত্যেক মানুষের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নিচ্ছে। তখন আমাদের দেশের মানুষ মনে করে কোন এলাকা থেকে সরকারি দলের এমপি না থাকলে বা প্রভাবশালী লোক না থাকলে সেই এলাকার কোন উন্নয়ন হবে না। আমাদের দেশে মন্ত্রী-এমপিরা ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ও স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে থেকে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার শপথ গ্রহণ করে। কিন্তু অভিযোগ আছে শপথ অনুষ্ঠান থেকে বের হওয়ার পর অনেকে কথাগুলো ভুলে যায়।
বৈশিষ্ট্যগত কারণে এ দেশের উন্নয়ন মূলত কয়েকটি বড় শহর কেন্দ্রিক। এরপর স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে। এ দেশের আপামর জনগণ স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতায় বিশ্বাস করে না অথচ বৃহৎ অর্থে জনগণই এই অভিশাপের সবচেয়ে বড় শিকার।
এমতাবস্থায় কারোর মনে যেন আঞ্চলিকতার মতো সংকীর্ণ মনোভাব না থাকে এবং এগুলো চর্চা করতে না পারে সে জন্য জনগণকে সচেতন করা বিশেষ প্রয়োজন। পাশাপাশি এগুলো যারা চর্চা করে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ ও আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। কেউ যেন বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান করে বাংলাদেশকে দুর্বল করতে না পারে। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, বরাদ্দ, নিয়োগ, পদোন্নতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে সবার জন্য মঙ্গলকর, জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় ঐক্যের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া এখন সময়ের দাবি। এ দেশের মানুষ আসলে কী জন্য বা উদ্দেশে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিল সেই মর্মার্থ যেন আমরা উপলব্ধি করতে পারি, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী




