শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২২, ০৮:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট চালু
শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

বিশিষ্ট দাঈ ও জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট চালু হয়েছে।

শনিবার (১৩ আগস্ট) শায়খ আহমাদুল্লাহর ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে বলা হয়, আলহামদুলিল্লাহ প্রস্তুত হয়ে গেল শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট। অনেকে তাঁর পাবলিক প্রোগ্রামগুলো অনুসরণ করতে চান, অনকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমাদেরকে মেসেজ করেন, তাঁরা ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারবেন কখন কোথায় তাঁর প্রোগ্রাম হচ্ছে। এছাড়াও নিতে পারবেন সাক্ষাতের শিডিউল।


বিজ্ঞাপন


জনপ্রিয় এই ইসলামি স্কলারের ওয়েবসাইটে থাকবে:

 ১. ক্যাটাগরিভিত্তিক সব আলোচনার ভিডিও (বিষয় সিলেক্ট করে এবং সার্চ অপশনে সার্চ করে ভিডিও দেখা যাবে)।

২. আপকামিং পাবলিক অনুষ্ঠানের শিডিউল।

৩. শায়খ আহমাদুল্লাহর লেখালেখি।


বিজ্ঞাপন


৪. সামাজিক কার্যক্রমসহ সব ধরনের কার্যক্রমের বিবরণ।

ওয়েবসাইটের লিংক: https://ahmadullah.info/

শায়খ আহমাদুল্লাহর বর্ণাঢ্য জীবন

শায়খ আহমাদুল্লাহ বাংলাদেশের স্বনামধন্য ইসলামি ব্যক্তিত্ব। বিদগ্ধ আলোচক, লেখক ও খতিব। ইসলামের খেদমতে তিনি নানামুখী কাজ করেন। লেখালেখি, গবেষণা ও সভা-সেমিনারে লেকচারসহ নানামুখী দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। উন্মুক্ত ইসলামিক প্রোগ্রাম ও প্রশ্নোত্তরমূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং টিভি অনুষ্ঠানে সময় দেওয়াসহ বহুমুখী সেবামূলক কাজে সপ্রতিভ গুণী ও স্বনামধন্য এই আলেমে দীন। দেশে-বিদেশে শিক্ষা, সেবা ও দাওয়াহ— ছড়িয়ে দিতে শায়খ আহমাদুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’।

আরও পড়ুন: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তিন হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করছে আস-সুন্নাহ

শায়খ আহমাদুল্লাহর জন্ম ১৫ ডিসেম্বর ১৯৮১ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার বশিকপুরে। বাবার নাম মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন, মায়ের নাম মোসাম্মাত দেলোয়ারা বেগম। বাবা ব্যবসায়ী ছিলেন ও মা গৃহিণী। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। শায়খ আহমাদুল্লাহ তিন পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের হোম পেজ। ছবি: সংগৃহীত

তাঁর পড়ালেখার হাতেখড়ি মায়ের হাতে। প্রাথমিক পড়াশোনা বশিকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর ভর্তি হন কওমি মাদরাসায়। নোয়াখালীর একাধিক মাদরাসায় কয়েক বছর পড়ার পর তিনি ভর্তি হন হাতিয়ার ফয়জুল উলূম মাদরাসায়। সেখানে প্রথিতযশা আলেমে দীন মুফতি সাইফুল ইসলামের সান্নিধ্য ও ছাত্রত্ব লাভের সুযোগ তৈরি হয়। এরপর তিনি দেশের সর্ববৃহৎ দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম হাটহাজারী মাদারায় ভর্তি হন। কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক) থেকে (সানুবিয়্যা) উচ্চমাধ্যমিকে পরীক্ষা দিয়ে দশম স্থান, (ফজিলত) স্নাতকে তৃতীয় স্থান ও ২০০১ সালে দাওরায়ে হাদিসে সম্মিলিত মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। দাওরায়ে হাদিস শেষ করে খুলনা দারুল উলুম থেকে ইফতা সম্পন্ন করেন।

লেখাপড়া শেষ করে মিরপুরের দারুর রাশাদে শিক্ষকতায় যোগ দেন। ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন। মাঝে এক বছর মিরপুরের আরজাবাদ মাদরাসায়ও হাদিসের শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন মিরপুরের বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদে। ২০০৯ সালে সুযোগ আসে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করার। আরবি ভাষায় বিশেষ দক্ষতার কারণে ডাক পান মধ্যপ্রাচ্যে। সৌদি আরবের পশ্চিম দাম্মাম ইসলামিক দাওয়াহ সেন্টারে যোগ দেন। একজন প্রিচার ও ট্রান্সলেটর হিসেবে সেখানে দীর্ঘ প্রায় দশ বছর কাজ করেন। আরবদের পাশাপাশি বাংলাদেশিদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন তিনি।

শায়খ আহমাদুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’। শিক্ষা, সেবা ও দাওয়াহ—তিন বিভাগে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিলেটে বন্যার্তদের পাশে শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

শুদ্ধ চিন্তা ও বিশুদ্ধ জ্ঞান চর্চার অংশ হিসেবে মূল ধারার বেশিরভাগ টেলিভিশন চ্যানেল এবং ওয়াজ মাহফিলসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত প্ল্যাটফরমে লেকচার দেন তিনি।

আরও পড়ুন: ২৫ হাজার পরিবার পেল আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের কোরবানির গোশত

ইসলাম নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি লেখালেখিও করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তাঁর লেখা ‘রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সকাল সন্ধ্যার দু’আ ও যিকর’ পুস্তিকা এবং ‘পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত পরবর্তী দু’আ ও যিকর’-এর কার্ড তিন লক্ষাধিক কপি এ যাবত বিতরণ করা হয়েছে। এই পর্যন্ত দাওয়াহ ও গবেষণা বিষয়ে প্রায় শ’খানেক প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। আরবি ভাষাতেও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর অনেক প্রবন্ধ।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ভূমিপল্লী জামে মসজিদের খতিবের দায়ত্ব পালন করছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইতোমধ্যেই তিনি জাপান, ভারত, আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের একাধিক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর