বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

গাজীপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, শিশুসহ একই পরিবারের দগ্ধ ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

গাজীপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, শিশুসহ একই পরিবারের দগ্ধ ৫
ফাইল ছবি। সংগৃহীত

গাজীপুরের কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ এলাকায় রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের শিশুসহ পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর প্রথমে তাদেরকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলের দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে এনে ভর্তি করানো হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, দগ্ধদের মধ্যে পরিবারের কর্তা রিয়াজুল শেখের (৪০) অবস্থা সবচেয়ে আশঙ্কাজনক। তার শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। 

এ ছাড়া দুর্ঘটনায় রিয়াজুলের স্ত্রী আরিফা বেগমের (৩৫) শরীরের পাঁচ শতাংশ, মেয়ে মোছা. ফারিয়ার (১৭) আট শতাংশ, পুত্রবধূ রোজিনার (১৮) এক শতাংশের কম এবং এক বছর বয়সী শিশু সন্তান মো. রহিমের শরীরের এক শতাংশের কম অংশ পুড়ে গেছে।

বর্তমানে সবাই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দগ্ধ রিয়াজুল শেখের পিতার নাম কালা মিয়া শেখ। গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার কেষ্টপুর গ্রামে। বর্তমানে গাজিপুর কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ স্কয়ার গেট সংলগ্ন এলাকায় একটি বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দগ্ধ রিয়াজুল শেখের পুত্রবধূ রোজিনা বেগম বলেন, ‘আমরা যে জায়গায় থাকি, সেখানে তিনটি রুম। আমরা দুই রুমে পরিবারের সবাই মিলে থাকি আর পাশের আরেকটি পকেট রুম রয়েছে, যেখানে একজন দম্পতি থাকেন। দম্পতির মধ্যে পুরুষ লোকটি ভিক্ষা করেন এবং মহিলা যিনি আছেন তিনি একটি তুলা ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। ভোর পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে তারা দুজনই কাজে বের হয়ে যান।’

তিনি বলেন, ‘সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে আমার শাশুড়ি তাদের রুমের সামনে বসে মোবাইল দেখছিলেন। হঠাৎ তীব্র গ্যাসের গন্ধ পেলে বিষয়টি আমাকেসহ আমার শ্বশুরকে জানান। পরবর্তীতে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ফোন করে এই গ্যাসের গন্ধের বিষয়টি তাদেরকে জানান। তারা বলে, বাথরুমে চাবি রেখে এসেছি, চাবি নিয়ে দরজা খুলে ভেতরটা দেখতে যে-আসলে কেন এমন হচ্ছে। পরবর্তীতে আমার শ্বশুর, শাশুড়ি এবং আমার ননদ চাবি নিয়ে তাদের ঘরের দরজা খুলতেই ঘর থেকে গ্যাসের তীব্র গন্ধ বের হয়।’

রোজিনা বেগম বলেন, ‘পরের ঘরটি অন্ধকার থাকায় আমার শ্বশুর লাইট জ্বালাতে যান। সুইচ দেওয়ার পরপরই গ্যাস সিলিন্ডার প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে আমার শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ এবং আমাসহ আমার এক বছরের বাচ্চা দগ্ধ হই। পরবর্তীতে পাশের আরেকটি রুমে থাকা আমার স্বামী আকাশ এসে স্থানীয়দের সবাইকে ডাক দিলে, সবাই আমাদের উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

‘পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ দুপুর ২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসে। তবে আমি এবং আমার বাচ্চা দরজার বাইরে থাকার কারণে আমাদের খুব একটা বেশি ক্ষতি হয়নি। আমরা ভেতরে ঢুকলে আমাদের অবস্থাও খারাপ হয়ে যেত। বর্তমানে এখানেই আমরা চিকিৎসাধীন আছি’, বলেন রোজিনা বেগম।

এমএমআর/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর