মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা এবং কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বাজারভিত্তিক তদন্ত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাজারে অনিয়মের অভিযোগ যাচাইয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বাজারভিত্তিক তদন্ত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।
এদিকে বৈঠকে মাছ মাংস, দুধ ও ডিমের উৎপাদন ব্যয়, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ডিম, দুধ ও মাংসের উৎপাদন খরচ জানানো হয়। বলা হয়, এক কেজি সোনালি মুরগির উৎপাদন খরচ ২৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির ১৬১ টাকা ৫৫ পয়সা, একটি ডিমের ১০ টাকা ৮১ পয়সা, এক কেজি দুধের ৪৪ টাকা ৮০ পয়সা, গরুর মাংসের ৫৮৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং খাসির মাংসের ৮৭৫ টাকা।
খুচরা পর্যায়ে বাজারভেদে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সোনালি মুরগির প্রতিকেজি ২৫৩ টাকা, ব্রয়লার প্রতিকেজি ১৮০-২০০ টাকা, ডিম ১২-১৩ টাকা, প্রতি কেজি দুধ, ১০০-১১০ টাকা, গরুর মাংস প্রতিকেজি ৭৮০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রতি কেজি ১০০০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, এক দিনের বাচ্চা ও ডিমের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর প্রণীত একটি কৌশলপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। ওই কৌশলপত্রের আলোকে বাজারে এক দিনের বাচ্চা ও ডিমের চাহিদা নিরূপণ করে উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা, জলাশয়ে অভয়াশ্রম গড়ে তোলা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খামারিদের সহায়তা এবং বাজার তদারকির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সামুদ্রিক মৎস্য অনুসন্ধান, মাছ আহরণ এবং রপ্তানির আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে কমিটিতে উপস্থাপনের সুপারিশও করা হয়।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব অধিদফতর ও সংস্থার চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন করার পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, এম এ হান্নান, আলী আজম, আবু বকর ও আমির হামজা। এ ছাড়া সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচএইচ/এএম




