রাজধানীর বাজারে মাছ-মাংসের দোকান এড়িয়ে চলছেন অনেক ক্রেতা। বাজারে এসে সবজি কিনলেও মাছ-মাংসের দাম শুনেই ফিরে যাচ্ছেন কেউ কেউ। পাইকারি ও খুচরা বাজারে একই পণ্যের দামে কেজিতে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত ব্যবধান থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর নেই।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও চালসহ অধিকাংশ মুদিপণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। সবজির বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত থাকায় সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে এক-দুই পদের তরকারি দিয়েই সংসার চালাতে হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মাছ-মাংসের দোকান এড়িয়ে যান ক্রেতারা
বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতাকে মাছ-মাংসের দোকানে দাম জেনে ফিরে যেতে দেখা গেছে। ক্রেতা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জন্য মাছ হচ্ছে তেলাপিয়া আর পাঙাশ। ওই দুইটার কেজিও এখন প্রায় ৩০০ টাকা। অন্য মাছগুলোর দাম কিংবা গরু-খাসির মাংসের দাম শুনে তো লাভ নেই। তাই ওদিকে উঁকি দিয়েই চলে এলাম।’
যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারে তেলাপিয়া মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কাতলা ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দুই কেজি ওজনের রুই ও কাতলা মাছ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও স্থানীয় বাজারে দাম ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা। দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের পাঙাশ পাইকারিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং স্থানীয় বাজারে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের দামেও পাইকারি-খুচরায় ব্যবধান
পাইকারি ও খুচরা বাজারে মাংসের দামেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। কাওরান বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও স্থানীয় বাজারে দাম ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগি পাইকারিতে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা এবং স্থানীয় বাজারে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংস পাইকারি বাজারে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া গেলেও স্থানীয় বাজারে দাম ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকা। খাসির মাংস পাইকারিতে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি হলেও স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। অর্থাৎ, খাসির মাংসে কেজিতে ১০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ছাগলের মাংসেও কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত ব্যবধান রয়েছে।

চড়া দামে সবজি, অপরিবর্তিত মুদিপণ্য
মাছ-মাংসের পাশাপাশি সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারে ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখী ও পটল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম ১০০ টাকা। আগাম শীতের মুলা ও ঢ্যাঁড়স ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ১৬০ টাকা, নতুন আলু ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ীর মাংস বিক্রেতা শফি উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে আসা লোকজন মাছ-মাংস কিনুক আর না কিনুক, সবাই কয়েক প্রকার শাকসবজি কিনে নেন। সবকিছুর দাম আগের মতোই আছে। দাম কমলে আমরাই কম দামে বিক্রি করব।’
এদিকে, মুদিপণ্যের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ২৩০ টাকা, ছোট মসুর ডাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, ছোলা ১০৫ টাকা এবং চিনি ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৫ টাকা।
বাজার করতে আাস মামুনুর রশীদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নাগালের মধ্যে আনা। আমরা চাকরি করে বউ-বাচ্চা নিয়ে শহরে জীবন কাটাই। আমাদের প্রত্যাশা একটাই, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো।’
এমআর/এআরএম




