শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সবজি, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে চাল, ডাল ও তেলের দাম বেশি থাকায় কমছে কেনাকাটার পরিমাণ। 

পরিবারের সবার চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেককে খাবারের তালিকা ছোট করতে হচ্ছে। একাধিক তরকারির বদলে একটি পদ দিয়েই খাবার সারছেন অনেকে। মাছ-মাংসের দোকানে দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন ক্রেতাদের কেউ কেউ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর-৬, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও ও ৬০ ফিট এলাকার বাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম ছিল ১০০ টাকা। শীতের আগাম মুলা ও ঢ্যাঁড়স বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। নতুন আলুর দাম ছিল ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। তবে পুরাতন আলু নাগালের মধ্যে রয়েছে, কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা।

মাছের বাজারেও ছিল উচ্চমূল্য। তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। রুই মাছের দাম ছিল ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে।

পরিবার নিয়ে রাজধানীতে বসবাস করা বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুর রহমান জানান, বেতনের অর্ধেক চলে যায় বাসাভাড়ায়। বাকি টাকা দিয়ে মাসের বাজার, সন্তানদের পড়াশোনা ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে হয়। ফলে ব্যক্তিগত শখ পূরণের সুযোগ থাকে না। আমাদের জীবন এখন এক তরকারিতেই সীমাবদ্ধ। একের অধিক তরকারি কেনার সামর্থ্য নাই। বাচ্চাকাচ্চার চাহিদা মেটাতে গেলে সংসারে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এক তরকারি খেতে খেতে একঘেয়েমি ধরে গেছে।

বাজার করতে আসা শামীম রেজা বলেন, আমাদের জন্য ভরসার মাছ হচ্ছে তেলাপিয়া আর পাঙ্গাস। ওই দুইটার কেজি এখন প্রায় ৩০০ টাকা। অন্য মাছগুলোর দাম শুনে তো আমার কোনো লাভ নেই, তাই ওদিকে উঁকি দিয়েই চলে আসলাম।’

মুদি পণ্য কিনতে আসা গৃহিণী মরিয়ম বেগমের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে।  ‘আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। ছোট্ট একটা চাকরি করে বউ-বাচ্চা নিয়ে শহরে জীবন কাটাই। কোনো ধরনের কার্ড আমাদের কপালে জোটেনি। আমাদের দাবি একটাই, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো।’

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে পণ্যের দাম বেশি থাকায় ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করছেন। অনেকে দাম জিজ্ঞাসা করে পরিমাণ কমিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বেশি দামের পণ্য না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। এতে ক্রেতাদের পাশাপাশি বিক্রেতারাও বেচাকেনা নিয়ে চাপে রয়েছেন।

৬০ ফিট এলাকার সবজি বিক্রেতা সুলাইমান জানান, সবজির দাম বেশি থাকায় ক্রেতারা আগের তুলনায় কম পরিমাণে কিনছেন। অনেকে একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি না কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী এক-দুই ধরনের সবজি নিচ্ছেন। দাম কমলে ক্রেতাদের কেনাকাটা বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।

এএইচ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর