রাজধানীর হাজারীবাগের বারইখালী এলাকায় এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের (ওয়ারহাউজে) হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নগদ ২০ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম, সিসিটিভি ক্যামেরা, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সিকদার মেডিকেল কলেজের পাশে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ওয়ারহাউজে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরা ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল হঠাৎ ওয়ারহাউজে প্রবেশ করে। এরপর তারা ভবনের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।
ওয়ারহাউজের সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন জানান, সন্ধ্যার পর একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ গুদামে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় অফিসে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট করার পাশাপাশি ল্যাপটপ ও সিসিটিভি-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
লুট হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে- একটি সিসকো কোর রাউটার, ৬৪ চ্যানেলের ডাহুয়া এনভিআর তিনটি, ৩২ চ্যানেলের এনভিআর দুটি, ১৬ চ্যানেলের এনভিআর দুটি, ৮ চ্যানেলের এনভিআর দুটি, ১০ টেরাবাইটের হার্ডডিস্ক ৩৮টি, একটি সার্ভার র্যাক, দুই মেগাপিক্সেলের ৪০টি ক্যামেরা, আটটি সিপিইউ, আটটি মনিটর, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ ২০ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ১৬৫টি শাখা থেকে এখানে মালামাল আসে এবং এখান থেকে বিভিন্ন শাখায় পাঠানো হয়। ফলে এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া এবং চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় ‘ইমন গ্রুপ’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, এর আগেও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ডেকে নিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাজারীবাগ থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, হামলাকারীরা সুপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলার আগে আশপাশের এলাকার অন্যান্য সিসিটিভি ক্যামেরাও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে হামলাকারীদের সহজে শনাক্ত করা না যায়।
তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এমআইকে/এসআই




