সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড হওয়া ২ বাংলাদেশির একজন শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহযাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড হওয়া ২ বাংলাদেশির একজন শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহযাত্রী

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন। তাঁদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়, অন্যজনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তবে তাঁদের পরিচয় ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে ঢাকাকে কিছু জানায়নি রিয়াদ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের জন্য ২০০টি ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আকাশপথে যোগাযোগ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ওই দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, নতুন ট্রলি যুক্ত হওয়ায় বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে। অনুষ্ঠানে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড গত বুধবার কার্যকর করা হয়েছে। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বসির ও সিথি আক্তার।

সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাঁদের গ্রেফতারের পর তদন্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলাটি আদালতে পাঠানো হলে বিচারকেরা তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেন।

তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। গত বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই চিঠিতে দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা জানান, দুই বাংলাদেশির গ্রেফতার, বিচার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় খবর প্রকাশের পর বিষয়টি মিশনের নজরে আসে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে ওই দুই ব্যক্তির নাম ছাড়া তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করার মতো বিস্তারিত তথ্য ছিল না। তাঁদের পাসপোর্ট, আকামা ও নাগরিকত্বের তথ্যও পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কনস্যুলেট।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় বিচারকের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষও রায় বহাল রাখেন।

ওই দুই বাংলাদেশির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তাঁরা আপিলের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না কিংবা কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো নাগরিক গ্রেফতার হলে তাঁর অনুরোধে আটককারী দেশকে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে অবিলম্বে জানাতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। তবে ওই দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে অবহিত করার অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা জানা যায়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে আগে থেকে বাংলাদেশি মিশনকে কিছু না জানানোর কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়া গেলে তাঁদের পরিচয় ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

এম/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর