রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

জনবল সংকটে জুলাই জাদুঘর, ভরসা আউটসোর্সিং

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

জনবল সংকটে জুলাই জাদুঘর, ভরসা আউটসোর্সিং
প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: ঢাকা মেইল
  • ১০৬ পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ
  • প্রতিদিন দায়িত্বে ৩০–৩৫ স্বেচ্ছাসেবী
  • ৮২ কর্মীর মধ্যে যোগ দিয়েছেন ৪৬ জন
  • শুক্রবার দর্শনার্থীর চাপ সর্বাধিক
  • নিয়োগপ্রাপ্ত মাত্র তিনজন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে এখনো নিজস্ব জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। অনুমোদিত ১০৬টি পদের বিপরীতে নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান থাকলেও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আউটসোর্সিং কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে। এতে প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা ও দর্শনার্থীদের সেবা নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় জাদুঘরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী, স্কাউট সদস্য ও গবেষণা দলের সদস্যরা বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন। তবে জাদুঘরের নিজস্ব নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী এখনো নেই।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে মোট ৮২ জন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬ জন কাজে যোগ দিয়েছেন এবং বাকি ৩৬ জনের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় জাদুঘরের প্রায় ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে দায়িত্ব পালন করছেন বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়। তবে কর্মরত জনবলের পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তালিকা পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

ঢাকায় ভ্রমণের নতুন গন্তব্য ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’

নিরাপত্তার বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানায় কতৃপক্ষ। জাদুঘরে নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

J
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ের একটি আলোচিত মুহূর্ত

জাদুঘর কর্তৃপক্ষের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটি নতুন হওয়ায় ব্যবস্থাপনা ও জনবলসংক্রান্ত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জাদুঘরকে শুধু প্রদর্শনীর স্থান হিসেবে নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে মানুষের জানাশোনা বাড়ানোর কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জাদুঘরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে ঢাকা মেইলকে জানান, জাদুঘরে নিজস্ব জনবল নিয়োগের জন্য ১০৭টি পদ অনুমোদিত রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের বিষয়টি পরিচালনা পরিষদের সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ব্যবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

জাদুঘরের কার্যক্রম পরিচালনায় স্বেচ্ছাসেবীরাও ভূমিকা রাখছেন। কর্তৃপক্ষের ওই কর্মকর্তা জানান, দিনভেদে স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা পরিবর্তিত হয়। সাধারণত প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্যে স্কাউট সদস্য ও গবেষণা দলের সদস্যরাও রয়েছেন।

জনবল সংকটের প্রভাব দর্শনার্থীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও পড়েছিল। আগে দর্শনার্থীদের ভিড়ের কারণে কোন গ্যালারিতে কী রয়েছে, কোন পথে যেতে হবে এবং প্রদর্শিত নিদর্শনের তাৎপর্য কী, তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার অভিযোগ ছিল। তবে বর্তমানে দায়িত্ব বণ্টন ও কর্মীদের কার্যক্রম নির্দিষ্ট রুটিনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন

প্রতিদিন কখন খুলবে জুলাই জাদুঘর, সাপ্তাহিক বন্ধ কবে

ওই কর্মকর্তা বলেন, জাদুঘরের বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। আউটসোর্সিং কর্মী, জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগে দর্শনার্থীদের চলাচল ও বিভিন্ন বিষয় বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্যা ছিল, তা কমাতে দায়িত্ব বণ্টন আরও সুশৃঙ্খল করা হচ্ছে।

জাদুঘরের ওই কর্মকর্তা জানান, জাদুঘরে নিজস্ব জনবল নিয়োগের জন্য ১০৬টি পদ অনুমোদিত রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের বিষয়টি পরিচালনা পরিষদের সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ব্যবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

দর্শনার্থীরা বলছেন, জাদুঘরে ঢুকে কোন দিকে যাবেন, কোন গ্যালারিতে কী রয়েছে, তা বুঝতে আগে দর্শনার্থীদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হতো। বিশেষ করে ভিড়ের মধ্যে এক গ্যালারি থেকে অন্য গ্যালারিতে যাওয়ার সময় প্রদর্শিত নিদর্শন সম্পর্কে জানার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ত। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটা বদলেছে। দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দর্শনার্থীদের পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন, কোন কক্ষে কী রয়েছে তা জানাচ্ছেন। এতে দর্শনার্থীরা আগের তুলনায় সহজে গ্যালারিগুলো ঘুরে দেখতে পারছেন এবং প্রদর্শিত নিদর্শন সম্পর্কে ধারণা নিতে পারছেন।

Julay2

দর্শনার্থী মাহিন হোসেন ঢাকা মেইলকে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই তিনি জাদুঘর দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, এখানে এসে আন্দোলনের সময়কার নানা স্মৃতি ও নিদর্শন সরাসরি দেখার মাধ্যমে ইতিহাসকে আরও কাছ থেকে বোঝার সুযোগ হচ্ছে।

পরিবার নিয়ে জাদুঘর দেখতে এসেছেন রাবেয়া বেগম। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, সন্তানদের নিয়ে এখানে এসেছেন, যাতে তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। বইয়ে পড়া বা অন্যের মুখে শোনার চেয়ে সরাসরি নিদর্শন দেখলে ঘটনাগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

শুরুতেই জুলাই জাদুঘরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ

বন্ধুদের সঙ্গে এসেছেন শারমিন জাহান মেঘলা। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে জাদুঘরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিটি গ্যালারিতে প্রদর্শিত নিদর্শন সম্পর্কে কিছু কথা লিখা আছে তবে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ থাকলে দর্শনার্থীরা উপকৃত হতেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের পরিচালক সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু ঢাকা মেইলকে বলেন, জাদুঘরে স্থায়ী জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নতুন পর্ষদ গঠনের পর এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৮২ জন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনার মধ্যে ৪৬ জন যোগ দিয়েছেন। বাকি ৩৬ জনের যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান।

পরিচালক বলেন, শুক্রবার জাদুঘরে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী আসেন। এদিন প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ জাদুঘর পরিদর্শন করেন। শনিবার দর্শনার্থীর সংখ্যা থাকে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার। অন্য দিনগুলোতে সাধারণত দুই হাজার বা তার চেয়ে কম-বেশি দর্শনার্থী আসেন।

এএইচ/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর