শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

মাদরাসা শিক্ষার দুর্বলতা দূর করে সময়োপযোগী করার আহ্বান ওলামা পরিষদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

মাদরাসা শিক্ষার দুর্বলতা দূর করে সময়োপযোগী করার আহ্বান ওলামা পরিষদের
জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ওলামা পরিষদের গোলটেবিল বৈঠকে নেতৃবৃন্দ

মাদরাসা শিক্ষার বিদ্যমান দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দূর করার পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ওলামা পরিষদের নেতারা।

তারা বলছেন, মাদরাসার স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলা জরুরি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় ওলামা পরিষদের আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে মাদরাসা শিক্ষার ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। কোনো ব্যক্তির নৈতিক বিচ্যুতি কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ত্রুটির দায় পুরো মাদরাসা শিক্ষা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো সমীচীন নয়।’

তিনি বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বা কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে পুরো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা উচিত নয়।’

আরও পড়ুন: ২১০ মাদরাসা পরিচালককে নিয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

বৈঠকে মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে সমালোচনা ও অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের দুর্বলতাগুলোও চিহ্নিত করে তা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবিলার পাশাপাশি আত্মসমালোচনা ও অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আরবি ভাষার ব্যবহারিক চর্চার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার মান বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।’

আরও পড়ুন: দেশে প্রাথমিক ও মাদরাসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

কোনো মাদরাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পর্যবেক্ষণ সেল এবং হটলাইন চালুর প্রস্তাব দেন ড. আহমদ আবদুল কাদের।

অপপ্রচার মোকাবিলায় কওমি বোর্ডের অধীনে তথ্য যাচাই ইউনিট এবং আইনগত সহায়তার জন্য প্যানেল গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

আরও পড়ুন: মাদরাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী ও কর্মসংস্থানমুখী করার উদ্যোগ

গোলটেবিল বৈঠকে কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বৈষম্য দূর করে যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ ও পদায়নের দাবিও জানান বক্তারা।

এ ছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে সেখানে আলেমদের নিয়োগ এবং শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

জাতীয় ওলামা পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্যসচিব মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহম্মদ খন্দকার।

বৈঠকে শায়খুল হাদিস শেখ আজিম উদ্দিন, ড. মাওলানা ঈশা শাহেদী, মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান, এহতেশামুল হক নোমানী, ড. মুহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, শেখ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, ড. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, মুফতি আবদুল্লাহ ইয়াহিয়াসহ আলেমসহ শিক্ষাবিদ ও ছাত্রনেতারা বক্তব্য দেন।

এমআর/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর