মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

সার সংকট: কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করতে তিন মন্ত্রীর কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

সার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহায়তায় কমিটি করছে সরকার
ফাইল ছবি

সার বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করার জন্য মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী সার উত্তোলন, বিতরণ ও সার-ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিবীক্ষণপূর্বক কৃষি মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে কমিটি। কৃষি মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেনকে। অন্য সদস্যরা হলেন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবিরের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে অবৈধভাবে সার মজুদ, ব্যবসায়ীর জেল-জরিমানা

প্রসঙ্গত, আমন ধান ও শীতকালীন বিভিন্ন ফসলের মৌসুমকে সামনে রেখে দেশে সারের চাহিদা যখন বাড়ছে, তখন বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকার নির্ধারিত ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনমতো সার না পেয়ে অনেক কৃষককে খোলা বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সেখানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।

এই অবস্থা্র মাঝেই গত রোববার (২৩ আগস্ট) কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে ক্ষুব্ধ কৃষকরা একটি ডিলার পয়েন্টের বেড়া ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষক আবু সালেহ মো. শামীম আলম শিবলীর দাবি, সার সংকটের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন ডিলাররা। সরকারের দুর্বল নজরদারির সুযোগ নিয়ে কিছু ডিলার পরিস্থিতির অপব্যবহার করছেন।

আরও পড়ুন: ‘সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে সারের মজুত ও চাহিদার মধ্যে পার্থক্য খুব বেশি নয়। ফলে এই সামান্য উদ্বৃত্ত দিয়ে বাজারে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সাল ইমামের সন্দেহের তালিকায়ও রয়েছেন ডিলাররা। তিনি জানান, সারের ডিলারদের কার্যকর তথ্যভান্ডার না থাকায় একই ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা কঠিন। এই সুযোগটাই নিচ্ছে তারা।’

ফলে সমস্যা সরবরাহে নয়, ব্যবস্থায় বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা। তাদের পরামর্শ, সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা দূর করতে হবে। একইসঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগও নিতে হবে।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর