বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন জুয়া (বেটিং) সাইটের অ্যাডমিনসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে অনলাইন বেটিং এবং অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা করতো বলে জানিয়েছে সিআইডি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— সৈয়দ জামান ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী। রাজশাহী ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা ও অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত করতো একটি চক্র। বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৭ মে পল্টন (ডিএমপি) থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার নম্বর-২০। মামলা রুজুর পর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তপূর্বক জানা যায়, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে সেগুলো বেটিং সাইটে ব্যবহার করে আসছিল। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ হতে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা তাদের কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচার করে আসছিল মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। মামলাটির তদন্তে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত এজেন্ট নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন ছিল সৈয়দ জামান। তদন্তে দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন বেটিং সাইটের কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচারের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সাইটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে অনলাইন বেটিং এবং অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা করা হচ্ছিল মর্মেও প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়।
তিনি জানান, মামলাটি তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিআইডি জানতে পারে যে গ্রেফতারকৃতরা দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে অনলাইন বেটিং সাইটে যুক্ত করতেন। এসব নম্বর ও হিসাবের মাধ্যমে জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ এবং অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হতো। পরবর্তীতে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা নিজেদের কমিশন কেটে রাখার পর অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সৈয়দ জামান ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী নিজ নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম অনলাইন জুয়া সাইটে সক্রিয় করার পাশাপাশি বিভিন্ন এজেন্টের সিম সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে যুক্ত করতেন বলে জানায়। তারা অনলাইন জুয়া সাইটের অর্থ জমা ও উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে জড়িত ছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, একই মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে সিআইডি মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করে। গত ৭ জুন টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সোলায়মান, মো. সাগর মিয়া ও মো. জুয়েল রানা গ্রেফতার করা হয়। এরপর ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মো. রায়হান খান, মো. পাভেল রহমান ভূঁইয়া ও আবু জোবায়ের সানিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ১২ জুলাই নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জসিম উদ্দীন ও সুমন রায়কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
একেএস/এফএ




